জাতীয়

পাবনায় দুদকের মামলায় সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শকসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক২৩ জুলাই ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় খাদ্য অধিদপ্তরের এক সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক, তাঁর বাবা ও স্ত্রীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ড এবং মামলার সংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, তাঁর বাবা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক এবং স্ত্রী মোছা. ডলি বেগম।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দায়ের করা এক মামলায় দুদক অভিযোগ করে, মনিরুল ইসলাম জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা তাঁর বাবার নামে থাকা জমিতে ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করেন।

এ কাজে তাঁর বাবা সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে সহযোগিতা করেন।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি দায়ের করা অপর মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা মনিরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী ডলি বেগমের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। পরে ওই অর্থের মধ্যে ৬০ লাখ টাকা স্ত্রীর নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ২০২২ সালের ১০ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত পৃথক রায়ে মনিরুল ইসলামকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় প্রতিটি মামলায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রথম মামলায় ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় মামলায় ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।
এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও ডলি বেগমকে দুদক আইনের ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম পলাশ বলেন, ‘আমরা এ রায়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

’
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মলয় কুমার দাস রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’