চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবির ৩ ব্যাটালিয়ন

নিউজ ডেস্ক১২ জুন ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রদিবেদক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি উপজেলার স্থল ও নদী এবং কাঁটাতারের বেড়া ও বেড়াবিহীন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মোতায়েন বিজিবির ৩টি পৃথক ব্যাটালিয়ন রাত-দিন এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয় সীমান্তবাসী জনগণও এ ব্যাপারে বিজিবিকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। বাড়ানো হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিজিবির জনবল।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে পুশ ইনের ব্যাপারে কোনো ঢিলেমি করা হবে না। সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৫৩ বিজিবি) লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আওতাধীন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি সতর্ক নজর রাখছে। পুশ ইনের ব্যাপারে শৈথিল্যর সামান্য কোনো সুযোগ নেই। বিএসএফ পুশ ইনের কোনো চেষ্টা করলেই কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একাংশ নিয়ে পাহারা দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি।

কাজ করছে ১৭টি বিওপি ও ২টি চেক পয়েন্টে। সীমান্তে কখনো কোনো পয়েন্ট দিয়ে গোপনে পুশ ইন করানোর কোনো সুযোগ রাখছে না বিজিবি। গত প্রায় ২ বছরে এই সীমান্তে একবার পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯) অধিনায়ক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি এই সীমান্তে পুশ ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জেলার ভোলাহাট ও শিবগঞ্জের একাংশ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এই বিজিবি।

১৭টি বিওপি ও ২টি চেকপোস্ট থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২ বছরে ৫৯ বিজিবির আওতাধীন ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা সীমান্ত পাহারা দেওয়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘এখন এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইনের জন্য কারো অবস্থান বা সমাবেশ দেখা যাচ্ছে না। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর প্রতিরোধে ২ দিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাঁদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সীমান্তে টানা ৩ দিন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গোমস্তাপুর সীমান্তে ৬টি বিওপি কাজ করছে। এই সীমান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ নিকটে হওয়ায় বারবার এ সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করে বিএসএফ।