নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন রেলস্টেশনের সামনে অভিযান পরিচালনা করে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগা-ভাগিকে কেন্দ্র করে নিজ ভগ্নিপতীকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী মোঃ এনামুলকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি নগরীর ভূগরইল এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নিহত ভিকটিম মোঃ রুহুল আমিনের (৩৮) স্ত্রী মোসাঃ শারমিন সুলতানার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি-জমা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল এজাহার নামীয় কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদ হয়। এক পর্যায়ে আসামী মোঃ এনামুল (৫৫) ভিকটিমকে চড় থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারে। সেই সময়ে আরেক আসামী মোঃ আমিনুল ইসলাম অরফে মিন্টু তার ডান হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে ভিকটিমকে গলার বাম পাশে কোপ মারলে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়।

পরবর্তীতে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরী বিভাগে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে ও দেশব্যাপী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে প্রচার হয়।
উক্ত ঘটনায় শাহমখদুম থানায় নিহত ভিকটিম এর পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনায় জড়িত আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৫, সিপিএসসি, রাজশাহীর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী মোঃ আমিনুল ইসলাম অরফে মিন্টু‘কে গত ২৪ মার্চ রাজশাহী মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন পালপাড়া নামক এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এর পরপরই এনামুলকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী জোরালো করা হয়। এনামুল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। র্যাব-৫ এর চৌকষ আভিযানিক দল তাকে সর্বদা ছায়া অনুসরণ করতে থাকে। তার প্রেক্ষিতে ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটার দিকে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী এনামুলকে রাজশাহী রেলস্টেশনের সামনে হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উক্ত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।









