তারেক মাহমুদ:
শীতের শাক-সবজির দাম বেড়েছে । যদিও শাক-সবজি বাজারে কমতি নেই। তার পরেও দামটা বেশ চওড়া। এ সপ্তাহে শাক-সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা। শীতের নতুন শাককের মধ্যে শরিষার শাক, পালং শাক ও সবজি হিসেবে ফুলকপি, বাধাকপি, শিম আর টমেটো। এদিকে, সবজির দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় শাক-সবজির দাম কেজিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। নতুন সবজি হিসেবে এসেছে ফুলকপি, বাধাকপি। তবে যোগন ঠিকঠাক থাকার পরেও নতুন সবজি হিসেবে দামটা বেশ চওড়া।
নগরীর সাহবে বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজমুল আলম বাবু সিল্কসিটিনিউজকে জানান, গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহে বাজারে সবজির আমদনি বেশি থাকলেও আমাদের পাইকারী বেশি করে কিনতে হচ্ছে । কারণ এবার গরমের কারণে মাঠে কৃষকের সবজির ব্যাপক ভাবে ম্যার খেয়েছে আর মাঠে যা সবজি আছে কৃষক সেই সবজি গুলো হাটে বাজারে আমরা কাছে পাইকারি কিনে বিক্রি করছি । তবে এ সপ্তাহ পর মাঠ থেকে আরো সবজি উঠার পরে সবজির দাম কমবে মনে করছি। এদিকে বাজারে

করলা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, কচুর লতি ৩৫ টাকা, বেগুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২৪ টাকা, শশা ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, পটল ২৫ টাকা এবং মুলা ৮ থেকে ১০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কুরিকচু ২০ টাকা, টমেটো ৪০ , ঢেঁড়াস ৩৫, শিম ৬০ , বাঁধা কপি ২৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা,কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা, গ্জর ৬০ টাকা,এবং লাউ প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নতুন সবজি বাঁধা কপি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ২৫ টাকায়। বাজারে সবজি বিক্রেতা শাহীন জানান, পরিবারের সবাই শীতের নতুন সবজি ভালোবাসে আর তাই আজ শীতের সবজি কিনতে এসেছি তবে যা আশা করেছিলাম তা আর হলো না যা দাম তাতে তৃপ্তি মিটিয়ে আজ সবজি কিনা হবে না।
বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রানা জানিয়েছেন, তেল চাল বাদে সকল দ্রব্য সামগ্রীর দাম স্বাভাবিক রয়েছে । তবে তেলের দাম একটু কমতে পরে।
এদিকে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ খেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতি ১০০গ্রাম ২৪ টাকা ,হলুদ ১৮ টাকা, জিরা ৪০ টাকা, ধনিয়া ১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরবারহ ভালো থাকায় শাকের বাজারে প্রত্যেক শাকের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
শাকের বাজারে গিয়ে দেখা য়ায়,শীত উপলক্ষে নতুন নতুন শাক বাজারে আশার পরও শাকের দাম অনেকটা বেশি।
প্রতি কেজি লাল শাক ১৫ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলো ২৫ টাকা শরিষা শাক ২৫ টাকা, কলমি শাক ১৮ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা, কচু শাক ১২ টাকা, সবুজ শাক ২৫ টাকা এবং পুই শাক ২০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবং পালং শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা গত সপ্তাহে ছিলো ৪০ টাকা। শাক কিনতে আসা সামিয়া বেগম জানান,শাক আমার পরিবারের প্রতিদিনের তালিকা ভুক্ত খাবার তাই শীতের শরিষা শাক কিনলা তবে দাম অনেটা বেশি।
এদিকে মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কার্প জাতীয় মাছের দাম আগের মত থাকলেউ দেশি ও নদীর মাছের দাম একটু বৃদ্ধি পেয়েছে । তবে এ সপ্তাহে নতুন কিছু মাছর দেখা মিলেছে সুমুদ্রের ভেটকি মাছ, রুপ চাঁদা চাপিলা এবং বড় বাইম মাছ, নতুন মাছ দেখতে সুন্দর হলেও দামটা আকাশ ছোঁয়া। মাছ কিনতে মুরাদ সরকার জানাজ, নদীর পাড়ে সেদিন দেখলাম বড় বাইম ছিপ দিয়ে ধরতে তাই আজকে বাইম কিনবো বলে বাসা থেকে এসেছি কিন্তু এক হাজার টাকা কেজি বাইম মাছ এখন কিভাবে কিনবো ভাবছি।
মাছ বিক্রতা আইনুল বলেন, বাজারে ক্রেতা সংখ্যা একটু কম তাই মাছের দাম আগের মতই আছে তবে দেশি এবং নদীর মাছের দাম একটু বেশি।
বাজারে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০টাকা, চিতল ৪০০, রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০ থেকে ১২০ টাকা,পাঙ্গাস ৯০ থেকে বাটা ১১০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৬০০ও হাইব্রিট কই ১৫০ টাকা, শোল মাছ ৫০০ টাকা, মৃক্রা ২৫০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৫০ টাকা এবং মিরর কার্প ১৬০ টাকা তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পুকুর ও দিঘি মাছ স্বাভাবিক থাকলেও নদী ও দেশি প্রজাতির মাছের দাম গত সপ্তাহের মতই আছে ।
নদীর বড় চিংড়ি ৬০০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৩২০টাকা, পিউলি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় কাটাপাতাসি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ঢেড়ে মাছ ৫০০টাকা, পাবদা ৬২০টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, বাছা মাছ ৬০০ এবং রিঠা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও আইড় ৫০০ টাকা, মায়া মাছ ২৫০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ টাকা, গুচি মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এ সপ্তাহে কমেছে, পদ্মার ও বরিশালের বড় আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
সাহেববাজারে মাছ কিনতে আসা আরেক ক্রেতা মোতালেব বলেন, মাছের বাজার আগের সপ্তাহের মতই আছে তবে দেশি মাছ দাম একটু বেশি আমার পরিবারে সবাই দেশি প্রজাতির মাছ ভালোবাসে তাই আমায় দেশি মাছ কিনতে হয় কিন্তু আজকে কিছু মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। এদিকে স্বাভাবিক রয়েছে মুরগির বাজারে ।
মুরগি ব্যবসায়ী মিঠুন হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, গত সপ্তাহের মত এ সপ্তাহে মুরগির দাম একই আছে,। তাই সাদা কক বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭০ টাকা, ব্রয়লার ১২৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ এবং হাঁস ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে গরু ও খাসির মাংসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে।
মেছের বাজার করতে আসা ক্রেতা মুক্তার জানান, আমাকে প্রত্যেক সপ্তাহে বাজার করতে হয়। আজ ৩ কেজি ব্রয়লার কিনেছি দাম গত সপ্তাহের মতই আছে।
এদিকে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে ডালের দাম। ডাল ব্যাবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, এ সপ্তাহে ডালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, কলাই ডাল ৮৫থেকে ১২০ টাকা, ছোলা ডাল ১২৫ টাকা, খেসারি ডাল ৭৮ থেকে ৬৫ টাকা, মটর ডাল ১৩০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, লবন ৪০ টাকা, ময়দা ২৪ টাকা, পোলাও চাল ১১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স/আ









