রাজশাহীতে পুষ্পমেলায় বাহারি ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত দর্শনার্থীরা

নূপুর মাহমুদ:

দুটি বানানের ছোট একটি শব্দ ‘ফুল’। তবে এর বিশাল গভীরতায় মানুষের আবেগ অনুভূতি খুব সহজেই প্রকাশ পায়। ফুল ভালোবাসেনা এমন মানুষ হয়ত খুজে পাওয়া দায়। তাই ফুলকে বলা হয় পবিত্রতা, স্নিগ্ধতা, এমন কি ভালোবাসার প্রতীক।

ফুলের সৌরভ যেমন মন কাড়ে, তেমনি ভাঙ্গায় শত জমে থাকা অভিমান। আর এমনসব হাজারো ফুলের আসর বসেছে রাজশাহীর নানকিং চত্ত্বরে।

নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে রাস্তা থেকে নামলেই ঝলমলে আলোয় সাজানো বড় গেট। আর সেই গেটে প্রবেশ করতেই চোখে বাহারি ফুলের সমাহার।

গোলাপ, গাঁদা, জবা, জারবেরা, রজনীগন্ধা, শিউলি, ডালিয়া, বেলি, গন্ধরাজ, কসমস, সর্যমুখি, পপি, প্যানাজি, ভারবেনা, অর্কিড, এন্টিরাইনাস, বেগুনিয়া, ইফুরভিয়া, ক্যামেলিয়া, গজেনিয়া, নেস্টিসিয়াম, সিলভিয়া, জিনিয়া, ডানথ্রাসসহ দেশী বিদেশী হাজারো প্রজাতির ফুল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে শুধু গোলাপের ১৩০ রকমের জাত পাওয়া যাচ্ছে। যার মধ্যে আছে, হলুদ রঙের রক্ত গোলাপ, কাঠ গোলাপ, লাল গোলাপ, গোলাপি, হলুদ, সাদা, নীল, এমনকি কালো রঙের গোলাপের জাতের দেখা মিলছে। আর প্যারাডাইস, টকটকে লাল কুইন, ডায়মন্ড আর গাঢ় গোলাপি রঙের সিটিবেল মনোযোগ কাড়ে অনেক দর্শনার্থীদের।

বসন্তবরণ আর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে দর্শনার্থীদের পদচারনায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে নানকিং চত্ত্বর। বিভিন্ন স্টলে শোভা পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সাথে স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত সেলফি উঠাতে।

দর্শনার্থীরা কথা বলে জানা যায়, বাহারী ধরনের এতো ফুল সচারচর দেখা যায় না। ফুলের নানান রং নানান নাম। মেলায় বাহারি রঙ্গের নতুন নতুন প্রজাতির ফুল নিয়ে এসেছেন নার্সারি মালিকরা। পুষ্পমেলায় পুরো অংশজুড়ে দেশি-বিদেশি নানা ফুলের সমাহার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী জেবিন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ফুল অনেক ভালবাসি। ফুল ভালবাসা বাড়ায়, অনুভূতি প্রকাশে কাজে লাগে। ফুল মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে। প্রতিবছরই এ মেলায় আমি বেড়াতে আসি। প্রতিবছর ফুল গাছের চারা সংগ্রহ করি। অনেক ভাল লাগে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ফুল প্রকৃতির একটি বিশেষ অবদান। ফুল দেখলে যে কারো মন ভাল হয়ে যায়। আমাদের খারাপ সংস্কৃতিগুলোকে দূরে রাখতে ফুলের বিকল্প নেই। এই ধরনের মেলা শুধু ফুল পরিচয় করিয়ে দেয়াই নয়, ফুল চাষে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তবে আর একটা জিনিসে খুব মন আকৃষ্ট করেছে যা আগে আমু দেখিনি তাহলো বাহারী রঙ্গের গোলাপ।

রুবিনা নামক আরেক দর্শনার্থী বলেন, অনেক ভাল লাগছে ফুলের জগতে প্রবেশ করতে পেরে।এতো ফুল একসাথে দেখে অনেক ভাল লাগছে। পুষ্প মেলা শুরু হওয়ার কথা শুনে ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছি মেলা প্রাঙ্গনে। বাচ্চাদের নতুন ফুলের সাথে পরিচয় হতে দেখে অনেক ভাল লাগছে। তাদের আনন্দটাই আমার কাছে অনেক।

দর্শনার্থী মিল্টন বলেন, সব নতুন গোলাপ দেখে খুবই ভালো লাগছে।ফুল তো সবারই ভাল লাগে। হরেক রঙ্গা ফুলের বাহার দেখে অন্তরে অনেকটা প্রশান্তি আসে। আজ মেলায় এসেছি বেশ কিছু ফুলের চারা সংগ্রহ করতে। বাসায় ফুলের টবে সংরক্ষনের মধ্যে আর পরিচর্যা করে অনেক আনন্দ পাওয়া যাবে বলে মেলায় ছুটে আসা। এটি একটি ভিন্ন ধর্মী আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ফুল দেখলে মন স্বচ্ছ হয়ে যায়। অনেক ফুল প্রেমী আছেন যারা বাইরে নার্সারীতে গিয়ে ভাল ফুল পান না। তারা এই মেলায় এসে ফুলের চাষ এবং পরিচর্যা করতে শিখতে পারেন। প্রতিবছর এ পুষ্প মেলার মাধ্যমে নতুন নতুন ফুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। পুষ্প মেলায় এসে দর্শনার্থীদের ফুল চাষে অনুপ্রাণিত করাই এ মেলার উদ্দেশ্য।

আর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা।  মেলায় এবার ২৪টি স্টল থাকছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছরই এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তারা।

স/অ

 

Print