সেক্স বিফোর ম্যারেজ: আরফিনা সাহসি

September 10, 2019 at 6:49 pm

সেক্স বিফোর ম্যারেজ বা বিয়ের আগের শারিরীক সম্পর্ককে মোটামুটি সব ধর্মেই নিষিদ্ধ ব্যাপার হিসেবে দেখা হয়। আর আমাদের এই উপমহাদেশে বিয়ের আগের শারিরীক সম্পর্ককে সামাজিক ভাবেও খারাপ ভাবে দেখা হয়। ধর্মীয় ব্যাপার বাদ দিলেও বিয়ের আগের রিলেশানে শারিরীক সম্পর্কের কিছু লং টাইম নেগেটিভ এফেক্ট আছে।

দা টেলিগ্রাফে ” Couples who don’t have sex before marriage are happier” শিরোনামে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যেখানে একটা স্টাডির রেফারেন্স দেয়া হয়েছিল।
ব্রিগহ্যাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির একদল রিসার্চার ২০০০ বিবাহিত দম্পতির উপর সার্ভে করে প্রকাশ করে যে
যেসব কাপল বিয়ের আগে সেক্স করেনি তারা যেসব কাপল বিয়ের আগে সেক্স করেছে তাদের চাইতে ২২% বেশী সুখী স্বাস্থ্যবান বিবাহিত জীবন পার করেছে।

স্টাডিতে পাওয়া যায় যেসব কাপল সেক্স করার জন্য বিয়ে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে তারা বিয়ের আগে শারিরীক সম্পর্কে জড়ানো কাপলদের চেয়ে
সম্পর্কের স্যাটিসফেকশনের দিক দিয়ে ২০% বেশী সুখী
দুজনার যোগাযোগ, শেয়ারিং, আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর দিক দিয়ে ১২% বেশী সুখী
এবং তারা বিয়ের পরের সেক্স লাইফ নিয়েও বিয়ের আগে সেক্স করা কাপলদের চাইতে ১৫% বেশী স্যাটিসফায়েড।

এর কারণ হিসেবে রিসার্চাররা বলেন
যেসব কাপল বিয়ের আগে সেক্স করেনি। এমন না যে সেক্স টাকে তারা জরুরী মনে করেনি। সেক্স হল হেটেরোসেক্সুয়াল প্রাণী বা যেসব প্রাণী এক্ষেত্রে মানুষ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে সেই টা অনুভব করার প্রধানতম কারণ। কিন্তু সেইসব কাপলরা বিয়ের আগে সেক্স না করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন, একে অন্যের সাথে বোঝাপড়া ,সেক্সলেস বিনোদনের মাধ্যমে একে অন্যের চরিত্রের বিভিন্ন দিক আবিস্কার করার ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা এতটাই স্বাস্থ্যবান হয়েছে যে বিয়ের পরে সেটা তাদের দাম্পত্য জীবনে পজিটিভ এফেক্ট ফেলেছে

যদিও আজকাল বিয়ের আগে সেক্স টাকে সমস্যা মনে করেন না অনেকেই। এটা আসলে যার যার পার্সোনাল ব্যাপার্। ধরেন আপনাকে কেউ নানান রকমের স্বপ্ন দেখিয়ে ,বিয়ে করার কথা বলে বেডে নিয়ে গেলো। এরপর সে আপনাকে ছেড়ে গেলো।

আপনি বললেন ,হু কেয়ার্স?.হইছে চলে গেছে। ব্যাপার না। যদি আপনি এটা ফিল করেন।
ধরেন বিয়ের পরে আপনার পার্টনার কে আপনি এই অভিজ্ঞতার কথা বললেন সেটা সে স্বাভাবিক ভাবে নাও নিতে পারে। বিয়ের আগেই বলে দেয়া ভালো।

কিন্তু বেশীরভাগ সাইকোলজিক্যাল ফাইন্ডিংসে পাওয়া গেছে যেসকল মেয়ে বিয়ের আগে সেক্স করে পরে সে নিজেকে এই কাজের জন্য
ইউজড হয়ে যাওয়া একজন মনে করে।
They feel like they are used or they gave up their dignity for sexual pleasure.

এক্ষেত্রে ছেলেরা অবশ্য শক্ত আছে। ছেলেদের বিয়ের আগের সেক্স নিজের মধ্যে তেমন কোন হিনমন্যতা তৈরী করেনা। এর কারণ বোধহয় বাংলাদেশ হোক ,আফ্রিকা হোক আর ইউরোপ আমরিকা হোক এখনো বিয়ের আগে সেক্স করলে দায় মেয়ের ঘাড়েই বেশী পরে। ছেলেদের ইমেজ টা অনেকটা সুপারপাওয়ারের মত যে বসে আছে দেয়ার জন্য। আমি দিয়েছি ,সে নিয়েছে ,সো হোয়াটস দা বিগ ডিল।

অতচ দায়টা ছেলেরও সমান। এখন আপনি যতই বিপ্লব করেন এটাই বাস্তবতা দায়টা মেয়েদের যেহেতু বেশী নিতে হয় সাবধান মেয়েদেরকেই হইতে হবে।

সেক্স হলো দুইজনার মধ্যে সম্পর্কে সর্বোচ্চ সুখের ব্যাপার্। এখন এক ছেলে আপনারে বলে ভালোবাসে। সে রিলেশানের ১৫ দিনের দিন সেক্স করতে চায়। রিলেশনশীপটা হলো একটা জার্ণির মত। তো পনের দিনেই সর্বোচ্চ সুখটা পেয়ে গেলে পরেরদিন সকালে তাদের মধ্যে অনেকেই ভাববে ,এর পর আর কি?
আসলেই আর কি বাকি আছে। নতুন কি আছে? সব তো পুরান হইয়া গেল।
আবার তার যদি উদ্দেশ্যই থাকে সেক্স করা তাহলেত এটাও ভাববে না। পাইছি এখন আসি

আর যদি আপনারা দুজন দুজনকে ভালোওবাসেন একে অন্যকে ভালো করে বুঝার আগে এমন আল্টিমেট স্টেজে যাওয়া কি ঠিক?

আচ্ছা সাইকোলজির পকপকানি বাদ দেই একদম বাংলা কথায় আসি

আমরা ইউরোপিয়ানও না আমেরিকানও না। আমরা বাঙ্গালী। বাঙ্গালী সমাজে শারিরীক সম্পর্ককে অনেক মূল্যবান মনে করা হয়। শত শত বছর ধরে এখানে মেয়েরা নিজের সমস্ত রুপ টুকু নিয়ে অপেক্ষা করে জামাইর কাছে ধরা দিবে বলে। ছেলেরা সমস্ত পৌরুষত্ব নিয়ে অপেক্ষা করে স্ত্রী কে অর্ধাঙ্গী বানাবে বলে। হয়ত এখন মডার্ন হয়েছে। লিবারেল হয়েছে চিন্তাভাবনা। কিন্তু লিমিট একটা থাকতে হবেই।
এটা আমেরিকা না নাইট ক্লাবে দেখা হলো ,দুই পেগ এক সাথে মারলাম,রুমে গিয়ে সেক্স করলাম। সকালে কেউ কাউরে চিনিনা। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড।

আমরা বাঙ্গালী আমাদের ভালোবাসার ধরণটা আলাদা। আমরা চিঠিতে ভালোবাসি ,একটুখানি হাত ধরায় সলজ্জ শিহরণে ভালোবাসি। অপেক্ষায় থাকি কবে তাকে পুর্ণ করে পাবো। এটা আমাদের ভালোবাসার ধরণ।

যতই জিন্স ,টপস পড়ি আর মাঞ্জা মারি দিনের শেষে আমরা বাঙ্গালী। এটা আমাদের পরিচয়। আমাদের ভালোবাসাটাও হোক বাঙ্গালের মত।

লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া।

Print