অর্থ ও বাণিজ্য

৯ বছর বন্দরে পড়ে থাকা আমদানি পণ্য ধ্বংস হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা আমদানি পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ, পচে-গলে নষ্ট হওয়া এবং আমদানি নিষিদ্ধ এসব পণ্যের মধ্যে আছে আপেল, কমলা ও নুডলস, পোল্ট্রি শিল্পের খাবার, বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য। ধ্বংস করার জন্য অন্তত ১০৮টি কনটেইনার চিহ্নিত করা হয়েছে; যেগুলো আমদানি হয়ে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে ছিল। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেগুলো বন্দর থেকে ছাড় পায়নি।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ‘আমদানিকারক পণ্য এনে বছরের পর বছর বন্দরেই ফেলে রেখেছেন। কনটেইনার আটকে রাখার মাসুল তো পাইনি; উল্টো পণ্য ধ্বংসকাজের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে আমাদের। টাকাই যদি দিতে হয় তাহলে প্রতি মাসে কেন এই কাজ করা হচ্ছে না? অন্তত কনটেইনারগুলো আবার ব্যবহারের মতো অবস্থায় পেতাম।’

কাস্টমস বলছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ভর্তি এসব পণ্য হালিশহরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আবর্জনাগারে নিয়ে ধ্বংস করার কাজ শুরু হবে; চলবে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরই মধ্যে ধ্বংসকাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস উপকমিশনার তপন চন্দ্র দে বলেন, ‘১০৮টি কনটেইনারে থাকা পণ্য ধ্বংস করার জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছি। গত ডিসেম্বরে সেগুলো ধ্বংস করার কথা ছিল, কিন্তু নির্বাচনের কারণে সম্ভব হয়নি। সার্বিক বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে ৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে হালিশহরে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করার কাজ শুরু হবে।’

২০১৭ সালে বড় আকারে পণ্য ধ্বংস করার কাজ করেছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তখন পণ্যের বেশির ভাগ ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে আনা আমদানি পণ্য। দুই বছর পর আবারও বড় ধরনের পণ্য ধ্বংস করার কাজ শুরু করছে কাস্টমস। তবে এবার বিভিন্ন ফলজাতীয় পণ্য ছাড়াও শুকনো ও রাসায়নিক পণ্য আছে।

মেডিটারিনান শিপিং কম্পানির ৪২টি পণ্যভর্তি কনটেইনার আছে। যেগুলো ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বন্দরে এসেছিল, কিন্তু ছাড় হয়নি। এসব পণ্যের মধ্যে আছে পোল্ট্রি ফিড, নুডলস, আপেল, কমলা, জিংক সালফেট অন্যতম।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘একটি কনটেইনার যত বেশি মুভমেন্ট হবে তত বেশি আয়, আর এটাই ব্যবসা। একটি কনটেইনার বছরের পর বছর পড়ে থাকল বন্দরে কিংবা অফডকে। প্রতিদিন ১৫ ডলার হিসাব করলে অনেক টাকা; সেই মাসুল আমরা পেলাম না, এখন কনটেইনার থেকে পণ্য ধ্বংস করে দেখা যাবে কনটেইনারটি আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অথবা গেলেও সেগুলো বিদেশে পাঠিয়ে টাকা ব্যয় করে আবার ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।’

ধ্বংসযোগ্য ১০৮টি কনটেইনারের তালিকায় অনেক কনটেইনার আছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়ের্কসের। তাদের কনটেইনারগুলো বছরের পর বছর বন্দর ও বেসরকারি অফডকে পড়ে আছে।

মায়ের্কস লাইনসের ক্লেইমস ম্যানেজার বিকাশ দাশ  বলেন, ‘নিলামে উপযোগী অন্তত ৮০০ পণ্যভর্তি কনটেইনারের একটি তালিকা দিয়েছি, কিন্তু কয়টি ধ্বংস তালিকায় আছে, তা পাইনি এখনো। তবে পড়ে থাকা এসব কনটেইনারের কারণে আমরা খুবই বিপাকে আছি। আমদানিকারককে নোটিশ করার পরও এগুলো বন্দর থেকে ছাড় হয় না। তাই নিলামকাজ নিয়মিত ও দ্রুত করার কোনো বিকল্প নেই।’

জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী আমদানীকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাঁকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব পণ্যের স্তূপ পড়ে থাকে।

নিলামে তোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতাকে এই ফল দেওয়া হয়, তবে শর্ত থাকে ফরমালিন পরীক্ষা, কোয়ারেনটাইন বা উদ্ভিদ সংঘনিরোধ এবং আনবিক শক্তি কমিশনের পক্ষ থেকে খাওয়ার উপযোগী সনদ থাকতে হবে। এ ছাড়া কনটেইনারের ভেতর অন্য কোনো পণ্য থাকলে তা কায়িক পরীক্ষার পরই শুধু ছাড় দেওয়া হবে। নিলামে তোলার পর যেসব কনটেইনারের পণ্য খাওয়ার অনুপযোগী সনদ পায় সেগুলো শুধু ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।