রাজশাহীর খবর

৮০টি সংগঠন নিয়ে রাজশাহীতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন

নিউজ ডেস্ক১৫ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রায় ৮০টি বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে রাজশাহীতে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে মতবিনিময় সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। ‘রুখো জঙ্গিবাদ- বাঁচাও বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী ১৪ দলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় ১৪ দলের রাজশাহী সমন্বয়ক ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও বাংলাদেশে ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সমম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, মোশারফ হোসেন আখুঞ্জি, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, কমিটি গঠনের পর তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করব। রাজশাহীর যেকোন সংগঠন এই কমিটির মধ্যে থাকবে। সকল সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকগণ মূল কমিটিতে থাকবেন । তারা তৃণমূল পর্যায়ে দিক নির্দেশনা দিবেন।

তিনি বলেন, এইটা একটা গণ প্রতিরোধ কমিটি। এই গণপ্রতিরোধ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যূত্থানের সৃষ্টি করবে। সেই সাথে জঙ্গিবাদের মদদদাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তার সাথে জামায়াতে ইসলাম সবই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।  তাদের পতন রচিত হবে । তাদের চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশে টিকবে না। মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি টিকে থাকবে।

এরপর তিনি জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অর্ন্তভূক্ত সংগঠনগুলোর নাম প্রকাশ করেন।

 

4

এর মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সংগঠন, আইনজীবী সংগঠন,  পেশাজীবী সংগঠন, সরকারী কলেজ শিক্ষক কমিটি, সকল কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ,দলিল লেখক সমিতি, রাজশাহী প্রেস ক্লাব, রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব,সিটি প্রেস ক্লাব, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক কল্যান সমিতি, ফটো জার্নালিষ্ট এ্যসোসিয়েশন, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, রেশম মালিক সমিতি, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স, আরডিএ ব্যবসায়ী সমিতি,বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি,ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ, বিভিন্ন ঠিকাদার পরিষদ,মহিলা পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনসহ প্রায় ৮০ টি সংগঠন ।

এছাড়াও কোনো সংগঠন জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাড়া দিতে চাইলে তাদের অর্ন্তভূক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সকল জঙ্গি গোষ্ঠী এক। এরা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করে। দেশে বর্তমানে ইসলামের  নামে যা হচ্ছে তা কোন ভাবেই সমালোচনা করা যায় না। বাংলাদেশের ইসলাম সব সময় উদার। সে বাংলায় আজ যদি ইসলামের নামে হানাহানি হয় তাহলে কিভাবে সেটা ইসলাম হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা কোনো লড়াইয়ে হারিনি। এ লড়াইয়েও আমরা জিতবই। সবাইমিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে। আমাদের মূল কাজ হবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা।যারা এসব অপরাধ করবে তাদের প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ জন্য যারা দেশকে ভালোবাসে দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে চায়, তাদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হবে। আমরা চাই একাত্তরের শহীদদের, জাতীয় চার নেতাদের আস্থা দিতে। তারা যে উদ্দেশ্যে দেশ স্বাধীন করেছে, যে উদ্দেশ্যে রক্ত দিয়েছে তা কখনোই ব্যর্থ হবে না।
এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে। প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে।

স/শ