রাজশাহীর খবর

২৬২ দিনে অফিসে ৬৮ দিন: সেই সেকশন অফিসারের জুলাইয়ের ছুটি মঞ্জুর হলো সেপ্টেম্বরে

নিউজ ডেস্ক১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২৬২ দিনের মধ্যে মাত্র ৬৮ দিন অফিস করা রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার শারমিন আক্তার নূরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। উল্টো তাঁকে বাঁচাতে পেছনের তারিখে ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি চেয়ে আবেদন করলেও তাঁকে অর্জিত ও সরকারি ছুটি থেকে স¤œয় করে পুরো এক মাসের ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে রামেবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। অথচ ছুটি ছাড়ায় অফিস না করায় এর আগে একই কারণে মাহফুজুল রহমান নামের এক কর্মকর্তাকে রামেবির চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। স্বামী-স্বত্রীর দাপটে পেছনের তারিখের ছুটি মঞ্জুর করে চাকরিতে বহাল করা হলো এবার শারমিনকে। শারমিন আক্তারের স্বামী নাজমুল হোসেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন কর্মকর্তা ও চলতি দায়িত্বের সহকারী কলেজ পরিদর্শক পদে রয়েছেন।

রামেবি সূত্র মতে, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন কর্মকর্তা ও চলতি দায়িত্বের সহকারী কলেজ পরিদর্শক নাজমুল হকের স্ত্রী শারমিন আক্তার নূর গত বছরের ২৮ নভেম্বর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি পান। শারমিন চাকরিতে যোগদানের পরে ২৬২ দিনের মধ্যে মাত্র ৬৮ দিন অফিস করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছুটিতে ছিলেন মাত্র ১৩ দিন। আর নিজের ইচ্ছামতো এবং স্বামী নাজমুলের দাপটে তিনি ছুটি ছাড়ায় অফিস করেননি। এমনকি গত জুলাই ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩১ দিন অফিস করেননি। এ নিয়ে গত ১৭ আগস্ট একটি অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ হয়। এর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি শারমিনের বিরুদ্ধে। উল্টো তাঁকে বাঁচাতে এখন পেছনের তারিখ দিয়ে চুটি মঞ্জুরের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা গণনা হয় ডিজিটাল ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ পদ্ধতিতে। শারমিন আক্তার নূর অফিসে না আসায় তাঁর প্রমাণ থেকে গেছে ডিজিটাল পদ্ধতির হাজিরাতে। ফলে সেখানে কোনো রদবদলের সুযোগ না পেয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটির আবেদন করেন। এতে তিনি গত ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন। যেটিও সরকারি ছুটি আইনে বিধিসম্মত নয়। সরকারি ছুটির আইনে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগের জন্য গর্ভকালীন আট মাসের সময় থেকে পুরো ছয় মাসের ছুটি পাবেন একজন নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী।

শারমিন আক্তার নূর পেছনের তারিখে যে ছুটির আবেদন করেছেন-তাতে তিনি একজন চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্রও দাখিল করেছেন। এতে দেখা যায়, শারমিন আক্তারের সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য দিন ধরা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে টানা ছয় মাস তাঁর ছুটি পাওয়ার কথা আগামী নভেম্বর মাস থেকে। কিন্তু এর আগেই তিনি গত ৪ জুলাই থেকে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনটি পাশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছেন। তাতে পেছনের তারিখ দিয়ে সুপারিশও করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হাবিব।

গত ২ সেপ্টেম্বর শারমিনের ছুটি অনুমোদনের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, শারমিন আক্তার ৩১ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেছেন। রামেবিতে তিনি ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর যোগদান করেছেন। সে অনুযায়ী তার পূর্ণ গড় বেতনে ১৯ দশমিক ৯০ দিন, অর্ধগড় বেতনে ১৮ দশমিক ২৫/২ দিন= ৯ দশমিক ১২৫ দিন ছুটি পাওনা আছে। সে মোতাবেক বাকি ছুটি সরকারি ছুটি বিধি অনুসারে সম্নয় সাপেক্ষে অনুমোদন করা যেতে পারে। এর পর গত ২ সেপ্টেম্বর ওই আদেশটির অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ.জেড.এম মোস্তাক হোসেন।

২ সেপ্টেম্বর ওই আদেশ দেওয়া হলেও শেষে বলা হয়, এমতাবস্থায় আগামী ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩১ দিন ছুটি প্রদান করা যেতে পারে।

এ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে শারমিনের আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হাবিব, ‘আমি ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছি কিনা মনে নাই। তবে ফাইল দেখে বলতে হবে। তিনি সরকারি ছুটি ও অর্জিত ছুটি পেলে সেটি সম্নয় করা হবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল কাদেরকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ম্যাসেজ দেওয়া হলেও তিনি তাঁর কোনো উত্তর দেননি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এ.জেড.এম মোস্তাক হোসেন গত ৩ সেপ্টেম্বর বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নিব। পেছনের তারিখে ছুটি মঞ্জুর করা হলে তাঁদেও বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরবর্তিতে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী ব্যস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হয় না।’

স/আর

ট্যাগ: