চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রায় ১৮ বছর আগে এলাকা ত্যাগ করেন জঙ্গি নেতা সারোয়ার জাহান (২৫) ওরফে আবু ইব্রাহীম আল হানিফ। এরপর আর এলাকায় ফিরেননি। তবে গত ৮ অক্টোবর র্যাবের অভিযানে ঢাকার আশুলিয়ায় নিহত হন তিনি।

এক বিল্ডিংয়ের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত হন হানিফ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার নামোমুশরীভূজা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে।
তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহমানের প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান। কিন্ত জঙ্গি খাতায় নাম লিখিয়ে তিনি আবু ইব্রাহীম আল হানিফে পরিণত হন।
নিহতের মা সালেহা বেগম জানান, চার ছেলের মধ্যে হানিফ ছিল তৃতীয়। হানিফ মুশরীভূজা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করার পর স্থানীয় নামোমুশরীভূজা হাফিজিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে কোরআন শরীফের হাফেজ হন। পরে ১৯৯৮ সালে নাচোল উপজেলার রেলস্টেশন সংলগ্ন ইসলামীয়া কাওমী মাদরাসায় ভর্তি হয়।
সেখানে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এক বন্ধুর সাথে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল এলাকায় একটি জঙ্গি সংগঠনের সভায় যোগ দেন। ওই সভা থেকে জঙ্গি সন্দেহে ৪২ জনকে আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপর থেকে বাড়ীর সাথে আর কোন যোগাযোগ করেনি হানিফ।
তিনি দিনাজপুরে বিয়ে করেন। তার ২ ছেলে ১ মেয়ে ও অন্তসত্বা স্ত্রী রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরো দাবি করেন, হানিফের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। আবার সোমবার পুলিশ ও র্যাবের একটি দল তার গ্রামের বাড়ী থেকে বড় ভাই কামরুল ইসলামকেও নিয়ে যায়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বৃহস্পতিবার র্যাব-৪ এর কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এলাকার মো. হোসেন, হালিম, নোমান আলী জানান, হানফিকে ১৯৯৮ সালের পর থেকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে ভোলাহাট থানার ওসি মহসীন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জঙ্গি হানিফের ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে তার বাড়ি মশুরিভুজা গ্রামে। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের সাথে কেউ যোগাযোগ করেননি।
স/আর









