শিক্ষা

১৪ শিক্ষকের কলেজে পরীক্ষার্থী ৫, পাস করেছে ১ জন

নিউজ ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের ক্যা.এবি তাজুল ইসলাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজে কলমে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছর কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন ছাত্রী।

এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। এর আগের বছরও ছিল প্রায় একই চিত্র।
এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর পর এলাকাবাসীসহ প্রশাসনের নজরে আসে ফলাফলের বিষয়টি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির এমন ফলাফলের তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে সাবেক এমপি ক্যা. এবি তাজুল ইসলাম নিজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

তবে শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। গত বছর ২৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল ৪ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক ব্যবহারে বেশি সময় ব্যয় করছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল জামাল বলেন, এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাস করেছে। তার নাম জান্নাতুল মীম, সে জিপিএ ৩ পেয়েছে। আগামী বছর ২০ জন পরীক্ষা দেবে। তিনি বলেন, ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যায়। আর যারা থাকে, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসত না।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার কলেজটি রীতিমতো আই সি ইউ তে আছে। পাঠদানের অনুমতিপত্র (EIIN NO139351) বাঁচাতে ও এমপিওভুক্তির আশায় শিক্ষার্থী অনুরোধ করে এনে পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। কাগজে কলমে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা নেই। বলতে গেলে আমি একা যুদ্ধ করছি কলেজটিকে বাঁচিয়ে রাখতে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনার প্রতিমন্ত্রী বরাবর ‘কলেজ বাঁচানোর আবেদন’-এর একটি দরখাস্ত তিনি প্রতিবেদককে দেখান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ভিপি নাজমুল হুদা বলেন, কলেজের বেহাল দশা পরিকল্পনা মন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, সমাধান আসবে। ভবিষ্যতে রেজাল্ট ভালো হবে।’