নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদ ডিসকলিজিয়েট হওয়ায় প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে যান বুলবুল রহমান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সভাপতি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সভাপতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে বুলবুলের বিরুদ্ধে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বুলবুল তাঁকে ফোন করে দেখা করতে চান। পরে প্যারিস রোডের মোড়ে তাঁদের দেখা হয়। তিনি ভেবেছিলেন, বুলবুল একাই আসবেন। কিন্তু তিনি মোটরসাইকেলে করে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।
অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তৌকিরের উপস্থিতি ছিল ৪৯ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া যায় না। আমি তাকে বলেছি, এটি একাডেমিক বিষয়। চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নিয়মের বাইরে গিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দিতে পারি না।’
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা শুনে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি ঘটনার ভিডিও ধারণের জন্য মোবাইল ফোন বের করলে তারা সেটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দুজন মিলে আমার হাত ধরে টানাটানি করে। এ সময় আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে বুলবুল রহমান বলেন, তৌকির তাঁর বিভাগের ছোট ভাই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তাঁর উপস্থিতি ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ ছিল। তৌকির তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার অনুরোধ করেন। পরে প্যারিস রোডের মোড়ে সভাপতির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।
বুলবুল বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম, ছেলেটি অসুস্থ ছিল এবং মেডিকেল রিপোর্টও জমা দিতে গিয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে সুযোগ দিলে তার একটি বছর বেঁচে যেত।’
তবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল বলেন, ‘আমি তাঁকে মারতে যাইনি কিংবা হুমকিও দিইনি। সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুরো ঘটনা দেখেছেন। আমি কাউকে গালিগালাজও করিনি।’
এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উর্দু বিভাগের দুই শিক্ষককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করলেও নির্ধারিত সিজিপিএ না থাকায় তাঁর আবেদন বাতিল হয়েছিল। পরে বিভাগের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা, অসদাচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া একই বছরের ১১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটকে তালা দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার পর তাঁকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাঁর বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি।









