সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: মহানগর গোধূলী লাইনচ্যুত হয়ে দশ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে গভীর রাতে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার ওসি রনজিৎ কুমার বড়ুয়া জানান, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এরপর দুর্ঘটনা কবলিত চারটি বগি রেখে বাকি ১৪ বগি নিয়ে ট্রেনটি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার পথে রওনা দিলেও পেছনে লাইন বন্ধ থাকায় রেলপথে চট্টগ্রাম সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনাকবলিত বগি সরিয়ে লাইন মেরামতের পর রাত ১ট ৫০ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে আবার চলাচল শুরু হয় বলে রেলওয়ের বিভাগীয় ট্রাফিক কর্মকর্তা ফিরোজ ইফতেখার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
বুধবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মহানগর প্রভাতী ওই দুর্ঘটনার কারণে পথে আটকে ছিল পুরোটা সময়। লাইন খোলার পর প্রথমে মহানগর প্রভাতী চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে পৌঁছায়।
এরপর ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিথা ও ঢাকা মেইল, সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও জালালাবাদ এক্সপ্রেস এবং চাঁদপুরাগমী মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় তিন থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে।
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম পৌঁছায় প্রায় ১০ঘণ্টা দেরিতে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে। চট্টলা এক্সপ্রেস সাড়ে সাত ঘণ্টা দেরি করে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৬টায় এবং চাঁদপুর থেকে আসা সাগরিকা এক্সপ্রেস ১০ ঘণ্টা দেরিতে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম আসে।
এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী মেইল ট্রেন নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয় বলে ফিরোজ ইফতেখার জানান।
রেল স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঠিক সময়ে সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে গেলেও অন্য ট্রেনগুলো ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
মহানগর গোধূলীর দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইখতেখারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।









