ছবিঘর

হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ আমি নই

নিউজ ডেস্ক২৮ জানুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জীবন জীবনের মতো চলবে। তা ছাড়া এত কিছু চিন্তা করিনি। মনে হলো একটু চেষ্টা করি। আমাদের কাছের অনেকেই গল্প লেখেন, পরিচালনা করেন, এমনকি অভিনয়ও করেন।

সবাই মিলে কিছু করার জন্যই প্রযোজনা সংস্থাটা চালু করলাম
কেমন আছেন?

খুব একটা ভালো নেই। আমার আম্মা অসুস্থ। আজ [গতকাল] অস্ত্রোপচার আছে একটা। দুই বছর ধরে তাঁর ডায়ালিসিস চলছে।

দুটি কিডনি প্রায় ড্যামেজ। সেই সঙ্গে ব্রেনেও জটিলতা চলছে। বুঝতেই পারছেন কী অবস্থায় দিন পার করছি।

এর মধ্যে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করলেন…

কিছু তো করার নেই।

জীবন জীবনের মতো চলবে। তা ছাড়া এত কিছু চিন্তা করিনি। মনে হলো একটু চেষ্টা করি। আমাদের কাছের অনেকেই গল্প লেখেন, পরিচালনা করেন, এমনকি অভিনয়ও করেন। সবাই মিলে কিছু করার জন্যই প্রযোজনা সংস্থা ‘রাজকন্যা’ চালু করলাম।

 

এখন অনেক বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হাত গুটিয়ে নিচ্ছে, খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই?

হ্যাঁ। বলতে পারেন সে কারণেই আমি বা আমরা শুরু করলাম। একটা সময় শিল্পীদের প্রতিদিনই শুটিং থাকত। অনেক সময় ডেট থাকত না। এখন খোঁজ নিয়ে দেখেন, কয়েকজন তারকা ব্যতীত আর কারো সেভাবে কাজ থাকে না। বেশির ভাগ শিল্পী-কলাকুশলী বসে থাকেন। তাঁদের নিয়ে পথ চলতে চাই। হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই। কতটুকু পারব সেটা সময় বলে দেবে, কী হবে না হবে সেটাও জানি না। তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষও আমি নই।

 

নাটকের দল ‘আরশীনগর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আপনি। এই দলের ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকের পরপর তিন দিন চারটি শো হয়েছে…

আম্মাকে নিয়ে ভারতে থাকার কারণে এবার রিহার্সালে সময় দিতে পারিনি। তবে মেকআপ, কস্টিউম, মিউজিক ও সেটে তৈরিতে সময় দিয়েছি। বলতে পারেন ব্যাকস্টেজে সক্রিয় ছিলাম।

 

বিটিভির ধারাবাহিক ‘আয়নাঘর’-এ অভিনয় করছেন। শুটিং করতে গিয়ে ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে কী ধারণা পেলেন?

আয়নাঘর সম্পর্কে তো কমবেশি সবাই জানে। আমিও সংবাদ মাধ্যমে যেটুকু জেনেছি সেটুকুই ধারণা। এই নাটকে মাত্র একদিন শুটিং করেছি। তিনটি দৃশ্য ছিল। এটুকুতে বোঝা যায় না আমার চরিত্রটা কোন দিকে মোড় নেবে। তা ছাড়া পুরো পাণ্ডুলিপিও নেই আমার কাছে। ৩০ জানুয়ারি থেকে আমার দৃশ্যগুলোর টানা শুটিং। তখন সুস্পষ্ট একটা ধারণা হয়তো পাব।

 

এ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে বিটিভিতে দুটি একক নাটক—‘সম্পত্তি ও ‘সম্পর্ক’ এবং ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ করলেন। বিটিভির নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

আমাদের একমাত্র রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বিটিভি। ২০০৯ সাল থেকে টানা ২০১১ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি চ্যানেলটিতে। বেশির ভাগ নাটকই ছিল হুমায়ূন আহমেদ স্যারের। ২০১২ সালে স্যার না-ফেরার দেশে চলে গেলে আর কাজ করা হয়নি। এরপর ২০১৭ সাল থেকে ফের বিটিভিতে নিয়মিত কাজ করছি। মাঝখানে এক বছর বেবির জন্য বিরতি ছিল। শুধু নাটক নয়, বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান হলেও আমাকে স্মরণ করে বিটিভি। এটা খুবই আনন্দের। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।

 

২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল—শোবিজে দুই দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট?

খুব বেশি সেলিব্রেটি হতে পারিনি। আমি খুব সুন্দরীও নই। তবে যে কাজগুলো করেছি সেগুলো আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রামীণ ফোন, বিকাশ থেকে শুরু করে দেশ সেরা আরো কিছু বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছি। ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘বৃহন্নলা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ও ‘সাঁতাও’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। বিশেষ করে ‘সাঁতাও’ মুক্তির তিন বছর পরেও গত সপ্তাহে নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে। আর কী লাগে বলেন! থিয়েটার থেকে এসেছি। অভিনয়টাই জানি, চাকরিবাকরি করি না। কিন্তু কাজের জন্য কোনো নির্মাতা ও প্রযোজককে ফোন দিতে হয় না। আমাকেই সবাই খুঁজে নেন। এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।