নিজস্ব প্রতিবেদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভ্রামম্যাণ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্কুল ছাত্রী কনিকা রানী ঘোষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বখাটেকে ফাঁসি আদেশ দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল মালেক। এসময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।
আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিশু আদালতের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিয়াউর রহমান আসামির উপস্থিতিতে বুধবার এ রায় প্রদান করেন।
এসময় আদালত অপর তিন স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে ৩২৪ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড, ৩২৬ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩০৭ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কা


রাদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ মে শুক্রবার সকালে ধাইনগর গ্রামের লক্ষণ ঘোষের মেয়ে কনিকা রানীসহ চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মহিপুর এলাকায় আব্দুল মালেক তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কনিকা রানী ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় আরও ৩ ছাত্রী একই গ্রামের এরা মহিপুর এস এম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী আব্দুল খালেকের মেয়ে তারিন আফরোজ (১৫), অরুনবাড়ি মহিপুর গ্রামের মোঃ তাজেমুল হকের মেয়ে তানজিমা আক্তার (১৪) ও বেহুলা গ্রামের মোকবুল হোসেনের মেয়ে মরিয়ম আক্তার আহত হয়।
এঘটনার পরে ওই দিনই স্থানীয়রা আব্দুল মালেককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরকারি কৌসুলী জবদুল হক জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় আদালতে ২১ জন স্বাক্ষী উপস্থাপন করেছে। এ বছরের ২৬ জানুয়ারী উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিজ্ঞ আদালত ১ ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ বুধবার রায় ঘোষনার ধার্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমারা আদালতে নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডটি বিষয়ে যে সাক্ষীপ্রমাণ উপস্থাপন করেছি তাতে আমরা আশাবাদী আসামী আব্দুল মালেকর সর্বোচ্চ সাজা হবে’।
আদালতে আসামী পক্ষের কোন আইনজীবী না থাকায় স্টেট ডিফেন্স হিসাবে আসামীর পক্ষে ছিলেন, এ্যাড. সোহরাব আলী।
এই রায়ে রাষ্ট্র পক্ষের কৌসুলী, নিহত কণিকার মা ও আহত অপর তিন সহপাঠী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবী জানান।
এঘটনায় নিহত কনিকা রানীর মা অঞ্জলি রানী বাদী হয়ে ওই দিন রাত ১০টার দিকে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সদর থানার এস আই মাহমুদুর রশিদ ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। আদালত ২১ জন স্বাক্ষির স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
স/আ









