ধর্ম

রোগ-ব্যাধি নিছক অসুস্থতা, আবার কারো কারো জন্য গুনাহ থেকে পরিত্রাণের মাধ্যম

নিউজ ডেস্ক১ সেপ্টেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

রোগ-ব্যাধি মানুষের জীবনের অংশ। এগুলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। কারো কারো জন্য রোগ-ব্যাধি নিছক অসুস্থতা, আবার কারো কারো জন্য গুনাহ থেকে পরিত্রাণের মাধ্যম। দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম।

কেউ রোগে আক্রান্ত হলে অপর মুসলমানদের দায়িত্ব হয়ে যায় তার শুশ্রূষা করা। তার খোঁজখবর নেওয়া। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা‌ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি।…অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এবং ৫. জানাজার সঙ্গে শরিক হওয়া।
’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৫৪৩)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রোগীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করো এবং বন্দিকে মুক্ত করো।’

(আবু দাউদ, হাদিস : ৩১০৫)

ফলে কেউ যদি কোনো অসুস্থ রোগীকে দেখতে যায়, তার খোঁজ নেয়, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে একদিকে সে যেমন অপর মুসলমানের হক আদায় করল, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় করে থাকলে অফুরন্ত সওয়াবের অংশীদার হলোও বলা যায়। কেননা হাদিস শরিফে রোগী দেখতে যাওয়াকে জান্নাতের ফল সংগ্রহের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান তার কোনো (রুগ্ণ) মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে সে (যতক্ষণ সেখানে থাকে ততক্ষণ) যেন জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে।

(তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৭)

এ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কোনো রোগীকে দেখতে গেলে ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায়। সুওয়াইর (রহ.)-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার হাত ধরে আলী (রা.) বললেন, আমার সঙ্গে চলো, অসুস্থ হুসাইনকে দেখে আসি। আমরা তার নিকটে গিয়ে মুসা (রা.)-কে হাজির পেলাম। আলী (রা.) বললেন, হে আবু মুসা! আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন, না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বলেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রা.) বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি, কোনো মুসলমান যদি অন্য কোনো মুসলিম রোগীকে সকালবেলা দেখতে যায়, তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দোয়া করতে থাকেন।

সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায়, তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরি হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯)
এখানেই শেষ নয়, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভেও এই আমল খুব কার্যকর। কেননা কোনো মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় অন্য অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, তখন ফেরেশতারা তার ইহাকালীন ও পরকালীন কল্যাণের জন্য দোয়া করেন। তাকে জান্নাতের বাসস্থানের সুসংবাদ দেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি হাসিলের আশায় কোনো অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা নিজের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়, একজন ঘোষক (ফেরেশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেন, কল্যাণময় তোমার জীবন, কল্যাণময় তোমার এই পথ চলাও। তুমি তো জান্নাতের মধ্যে একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নিলে। (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৮)

তাই আমাদের উচিত কোনো মুমিন ভাই অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, সাধ্যমতো তার সেবা করতে চেষ্টা করা।