সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
শীতের সময় অনেক মানুষ পেশিতে টান, ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব করেন। তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় পেশি শক্ত করে ফেলে, যার ফলে বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই মাংসপেশির ব্যথা রয়েছে, তাদের জন্য এ সমস্যা আরও বেশি বাড়তে পারে। যদিও শীত ও পেশি ব্যথার সম্পর্ক পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবু সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকার জানা থাকলে অস্বস্তি কমানো সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের কারণে পেশি ব্যথা ও ইনজুরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ঠান্ডায় পেশি শক্ত হয়ে যায়, রক্তপ্রবাহ কমে এবং শরীর গরম রাখতে কাঁপতে থাকে—এসব কারণেই পেশিতে বাড়তি চাপ পড়ে। যাদের আগে থেকেই পেশি ব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া বা অনুরূপ সমস্যা আছে, শীতে তাদের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এক রকম প্রভাব নাও দেখা দিতে পারে।

শীতে পেশি ব্যথা বাড়ার সম্ভাব্য কারণ
১. পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া: ঠান্ডায় পেশি ও টেন্ডন সঙ্কুচিত হয়, বেশি সময় ঠান্ডায় থাকলে বা বারবার কাঁপার ফলে টান সৃষ্টি হতে পারে।
২. ইনজুরির ঝুঁকি বৃদ্ধি: ঠান্ডা পেশির নমনীয়তা ও কর্মশক্তি কমায়, ফলে ব্যায়াম বা ভারী কাজের সময় ইনজুরির আশঙ্কা বাড়ে।
৩. ব্যথা অনুভূতির তীব্রতা: ঠান্ডায় রক্তসঞ্চালন কমে এবং স্নায়ু সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, ফলে ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে।
৪. কম শারীরিক নড়াচড়া: শীতে ঘরে থাকার প্রবণতা বাড়ে, কম সক্রিয় থাকলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শীতে পেশি ব্যথা সাধারণ ঘটনা হলেও, হঠাৎ তীব্র ব্যথা, আঘাতের ইতিহাস বা বেশি অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা কমানোর উপায়
শরীর গরম রাখা—উষ্ণ পোশাক, গরম ঘর, ঠান্ডায় কম সময় থাকা।
হিট প্যাড, হট ওয়াটার ব্যাগ বা উষ্ণ সেঁক ব্যবহার।
হালকা স্ট্রেচিং—ব্যথা বাড়লে বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
ম্যাসাজ—রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে পেশির চাপ কমায়।
প্রতিরোধে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
ঘর উষ্ণ রাখা
বাতাস ঢোকে এমন ফাঁক বন্ধ করা
স্তরযুক্ত পোশাক পরা
বাইরে গেলে গ্লাভস, টুপি, স্কার্ফ ব্যবহার
ভেজা বা ঠান্ডা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করা
ব্যায়ামের আগে যথেষ্ট ওয়ার্ম-আপ
কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে
ব্যথা হঠাৎ ও তীব্র হলে
দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি হলে
ঘরের ভেতরেও অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভব হলে
অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে
সর্বোপরি, শীত পেশির টান, কম নড়াচড়া বা স্নায়ুর সংবেদনশীলতার কারণে পেশি ব্যথা বাড়াতে পারে। নিয়মিত উষ্ণ থাকা, হালকা ব্যায়াম, ম্যাসাজ ও উপযুক্ত পোশাক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্যথা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: যুগান্তর









