রাজশাহী

শিরোইলে যানজট, নওদাপাড়ায় যেতে বাস মালিক-শ্রমিকদের নানা অজুহাত

নিউজ ডেস্ক৯ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

রাজশাহী শহরকে যানজটমুক্ত করতে ২১ বছর আগে নির্মাণ হয়েছে নতুন বাস টার্মিনাল। কিন্তু সেখান থেকে যাত্রী উঠানো-নামানো করা হয় না। শহরের উত্তরপ্রান্তে নওদাপাড়া এলাকার প্রায় সাড়ে ৭ একর জায়গার এই বাস টার্মিনালটি শুধু গাড়ি রাখার কাজেই ব্যবহার হয়। আর যাত্রী ওঠা-নামানো হয় শহরের শিরোইলের পুরনো বাস টার্মিনাল এলাকাতেই।

এতে শহরের ভেতর যানজট লেগেই থাকে। নওদাপাড়ায় যেতে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অজুহাত শেষই হচ্ছে না। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম নিজেই নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান। এ সময় বাস মালিক ও শ্রমিকেরা আবারও তাদের সামনে নানা অজুহাত তুলে ধরেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার জন্য সরকার নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। কিন্তু টার্মিনালের সামনে গড়ে ওঠা দোকানগুলো যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, টার্মিনালে যাত্রীদের বসার জায়গা, চলাচলের সুব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শৌচাগার ঠিকভাবে চালু হয়নি। এসব সুবিধা না থাকলে যাত্রীরা কষ্ট পাবেন। তারা আসবেন না।

তিনি বলেন, শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় বাসের কাউন্টার আছে। নওদাপাড়ায় বাস টার্মিনালের সামনের জায়গাগুলোতে বিভিন্ন দোকানপাট হয়েছে। এগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। তারপর সেখানে তাদের কাউন্টার করে দিতে হবে। তাহলে তারা নওদাপাড়া আসবেন। বিষয়টি আরডিএ চেয়ারম্যানকে একাধিকবার বলার পরও কোনো কাজ হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার বাস শহরে প্রবেশ করে। এতে প্রধান সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। গত এক বছর ধরে আমরা চেষ্টা করছি যেন নওদাপাড়া টার্মিনাল থেকেই এসব বাস যাত্রী উঠানামা করে। কিন্তু তারা নানা অজুহাত দিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে আরডিএ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, দূরপাল্লার বাস কাউন্টার শহরের যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে, কিন্তু যাত্রী উঠানামা অবশ্যই নওদাপাড়া টার্মিনাল থেকে করতে হবে। ঢাকা শহরে কাউন্টারে কোনো বাস থাকে না, সব যাত্রী উঠানামা নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে হয়। রাজশাহীতেও সেটা করা সম্ভব। আমরা একাধিকবার পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা নানা অজুহাত দিচ্ছেন। কিন্তু এই শহরের যানজট নিরসনের স্বার্থে সবাইকে নিয়ম মানতে হবে।’

আরডিএ চেয়ারম্যান এসএম তুহিনুর আলম বলেন, নওদাপাড়া বাস টার্মিনালটি আধুনিকীকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। টার্মিনালের সামনের দোকানগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কাউন্টার, যাত্রী বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু যানজট কমানো নয়, নওদাপাড়ার এই টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্যে আমরা পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। তারা মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। আশা করছি, খুব শিগগিরই দূরপাল্লার সব বাস এই টার্মিনাল থেকেই যাত্রী পরিবহন করবে। তারা শহরে ঢুকবে না।’

এ সময় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) নাজমুল হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী, রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হেলাল ও রাজশাহীর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি উপস্থিত ছিলেন।