রাজশাহী

শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ইফরান নিয়াজ দাবি হামলার দিন তিনি নাটোরে ছিলেন না

নিউজ ডেস্ক৭ নভেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব

শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ইফরান নিয়াজ দাবি করেছেন, হামলার দিন তিনি নাটোরে ছিলেন না, ছিলেন রাজশাহীতে।

 

নিজের দাবির পক্ষে বন্ধুর সঙ্গে অবস্থান এবং কেএফসি রেস্টুরেন্টে খাবারের বিল পরিশোধের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সামনে এনেছেন তিনি।

গত ২৫ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে নয়াবাজার এলাকার হাদার ছেলে হাবিব ও আলাল উদ্দিনের ছেলে ইফরান নিয়াজ তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

তবে গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় ইফরান নিয়াজ দাবি করেন, ঘটনার কয়েক দিন আগেই তিনি রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। হামলার দিন রাত ৯টার দিকে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে বন্ধু সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে তাঁরা আলুপট্টি মোড়ের কেএফসি রেস্টুরেন্টে যান। রাত ১০টা ৬ মিনিটে সাদ্দামের মেঘনা ব্যাংকের কার্ড দিয়ে খাবারের বিল পরিশোধ করা হয়।

এরপর তাঁরা সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট ও রোজ পুষ্প বিতানে কিছু সময় কাটান। রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

ইফরান নিয়াজের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তাঁর বন্ধু সাদ্দাম হোসেনও। তিনি জানান, ঘটনার দিন রাত ৯টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে রাজশাহীতে ছিলেন। কেএফসির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহীর কেএফসি কর্তৃপক্ষ জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কাউকে সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে খাবারের বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে, হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের একজন হেলমেট এবং অন্যজন মাস্ক পরা থাকায় তাঁদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

নাটোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাকি

লের বাবার শনাক্ত করা হাবিব ও ইফরান নিয়াজকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে ইফরান নিয়াজের রাজশাহীতে অবস্থানের দাবিটি তদন্তে আমলে নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন শাকিল ইসলাম। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।