রাজশাহীর খবর

লাউচাষেই ভাগ্য বদলাচ্ছে দুর্গাপুরের শত কৃষকের

নিউজ ডেস্ক১৬ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর, কানপাড়া, বাজুখলশি, জয়নগরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ মেতে উঠেছেন লাউচাষে। বাণিজ্যিকভাবে এই লাউচাষ করেই শত কৃষকের ভাগ্য বদলাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে।

এবার এ উপজেলাটিতে অন্তত ৯৫ হেক্টর জমিতে হয়েছে লাউচাষ। যা এর আগে কখনো এতো পরিমাণ জমিতে লাউচাষ হয়নি। প্রতি হেক্টর জমিতে ২৪ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন হারে লাউয়ের উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এবার এ উপজেলা অন্তত ২ হাজার ৩৬৫ মেট্রিক লাউ উৎপাদন হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। আর এ উপজেলা থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ ট্রাক লাউ কেনা-বেচা হচ্ছে। আর এসব লাউয়ের অধিকাংশই যাচ্ছে ঢাকার বাজারে। কিচু যাচ্ছে চট্টগ্রা আর সিলিটের বাজারসহ অন্যান্য বাজারে।

উপজেলার বাজু খলশি গ্রামের মো: বাবু জানান, তিনি এবার প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে লাউচাষ করেছেন। সেখান থেকে একদিন পর লাউ সংগ্রহ করতে পারছেন তিনি। গড়ে প্রতিদিন এখন তার জমি থেকে ১৫০টি করে লাউ সংগ্রহ হচ্ছে। যার দাম প্রায় ১৮০০ টাকা করে পাচ্ছেন। এভাবে অন্তত তিনি এক মাস ফুলদমে লাউ সংগ্রহ করতে পারবেন। এর বাইরেও সবমিলিয়ে তিনি ওই জমি থেকে মোট সাড়ে তিন মাস থেকে চার মাস পর্যন্ত লাউ সংগ্রহ করতে পারবেন। সবমিলিয়ে তার জমি থেকে ১২-১৪ হার টি লাউ সংগ্রহ করা যাবে। যা বিক্রি করে তিনি অন্তত ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

001 copy

বাবু বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে লাউচাষ করতে বাঁশের মাচাম, বীজ, সারসহ শ্রমিক খরচ মিলে বড় জোর খরচ হবে ১০-১২ হাজার টাকা। আর লাউয়ের দাম পাওয়া গেলে অন্তত ৫০ হাজার টাকা আয় হবে। সে ক্ষেত্রে এক বিঘা জমি থেকেই একজন কৃষকের আয় হচ্ছে অন্তত ৪০ হাজার টাকা। এ কারণে দুর্গাপুরের বিপুল পরিমাণ কৃষক গত কয়েক বছর ধরে লাউচাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে প্রতি বছরই লাউচাষও বাড়ছে।’

কলোনটিয়া গ্রামের লাউচাষি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘তার গ্রামসহ আশে-পাশের অন্তত ১০ কিলোমিটারজুড়ে এবার লাউচাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে গড়ে প্রতিদিন ২০ ট্রাক করে লাউ উঠছে। এখন প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকা করে। তবে মাঝে রোজার সময় লাউচাষিরা অনেকটা হতাশার মধ্যে পড়েন। ওইসময় প্রতিটি লাউ ২-৫ টাকা করেও বিক্রি করতে হয়েছে। এতে করে কৃষকদের কোনোমতে খরচের টাকা উঠেছে।’

002

উপজেলার ক্ষিদ্র লক্ষীপুর গ্রামের সারোয়ার হোসেন জানান, ফাল্গুন মাস থেকে শুরু হয় এ উপজেলায় লাউচাষ। যা চলে একেবারে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। শীত শুরু হলে লাউয়ের চাহিদা কমে যায়। তখন লাউচাষও বন্ধ হয়ে যায়। তবে এবার বর্ষায় রাউগাছের অনেকটা ক্ষতিও হয়েছে বলে জানান ওই চাষি।

এদিকে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পিন্টু মিঞা কালের কণ্ঠকে জানান, এবার এ উপজেলার মোট ৯৫ হেক্টর জমিতে লাউচাষ হয়েছে। যেখানে গতবার ছিল ৫৫ হেক্টর জমিতে। এবার বারি-১ জাতের লাউচাষ হয়েছে ৩০ হেক্টর জমিতে, বারি-২ জাতের ৪০ হেক্টর জমিতে এবং স্থানীয় উন্নত জাতের লাউচাষ হয়েছে আরো প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে।
এসব জমি থেকে এবার অন্তত গড়ে হেক্টর প্রতি ২৪ দশমিক ৯০ মেট্রিকট টন হারে লাউ পাওয়া যাবে। যা বিক্রি করে কৃষকরা লাভবাবন হবেন।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘লাউচাষ খুবই লাভজনক একটি ফসল। কারণ এটি করতে যেমন বেশি পানিরে প্রয়োজন হয় না, তেমনি সার এবং কীটনাশকের দরকার হয় না বেশি। আবার খরচের তুলনায় লাভও কয়েকগুন বেশি হয়। তাই এ উপজেলার অন্তত ৫ হাজার কৃষক লাউচাষে ঝুঁকেছেন এবার।’

 

স/আ