ধর্ম

লভ্যাংশ নির্ধারণ না করে ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করা

নিউজ ডেস্ক২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

একজন বললেন, ‘আমার নাম আবদুর রহমান সজল। বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায়। আমি পেশায় একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। আমি আলু, পেঁয়াজ, তরকারি ও ধানের মৌসুমে এগুলোর ব্যবসা করি।

ব্যবসার মৌসুমে আমার আত্মীয়-স্বজনের অনেকেই আমাকে নগদ অর্থ দিয়ে বলেন, এটা তোমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করো এবং আমাকে কিছু লভ্যাংশ দিয়ো। আমিও আমার লাভ অনুপাতে তাঁদের অনির্দিষ্টভাবে কিছু লভ্যাংশ দিই। যেমন—কোনো মাসে বেশি লাভ হলে আমি এক লাখে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিই। আবার লাভ কম হলে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা দিই।

এটা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আমার জিজ্ঞাসা হলো, এভাবে অর্থ গ্রহণ ও লভ্যাংশ প্রদান করা কি জায়েজ?’
শরিয়তের বিধান হলো, এক পক্ষের পুঁজি আর অন্যের শ্রম, যাকে মুদারাবা বলা হয়। এর মূলনীতি হলো, পুঁজিদাতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারিত হতে হবে। যেমন—লাভের ৬০ শতাংশ পাবে বিনিয়োগকারী আর ৪০ শতাংশ পাবে ব্যবসায়ী।

এর বিপরীতও হতে পারে এবং কমবেশি কোনো অংশ হতে পারে। যেহেতু প্রশ্নোক্ত চুক্তিতে শতকরা হার নির্ধারণ করা হয়নি; বরং লাভের কিছু অংশ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আপনাদের মাঝে লাভ আধাআধি হারে ভাগ করতে হবে। অতএব, আপনাকে লাভ হিসেবে যা দেওয়া হয়েছে, তা যদি অর্জিত মুনাফার ৫০ শতাংশ হয়, তাহলে সেটা নেওয়া বৈধ হয়েছে। আর যদি কম হয়ে থাকে তাহলে বাকি অংশ আপনি নিয়ে নিতে পারবেন। আর ৫০ শতাংশের বেশি দিয়ে থাকলে আপনার ফেরত দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের ব্যবসার পুরো হিসাব সংরক্ষণ করা জরুরি, যেন লভ্যাংশের বণ্টন যথাযথ হয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ৫/১১১, আল-বাহরুর রায়েক : ৭/২৬৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৪/২৮৫, রদ্দুল মুহতার : ৫/৬৪৮)

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন