নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক কর্মকর্তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা আদায়ে বাধা দিতে গেলে তার এক বন্ধুর মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় চাঁদা দাবির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় শহিদুল হাসান শাহীর স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন রাজশাহীর সি.এম.এম আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি নং-১৩৮১ সি/২০২৫ (বোয়ালিয়া)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার ২ নম্বর আসামি জহুরুল হাসান নিয়মিতভাবে রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসানের কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি রাজিবুল হাসান তার বন্ধু শহিদুল হাসান শাহীর কাছে জানালে, শাহী চাঁদা দাবি বন্ধ করতে জহুরুল হাসানকে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন দুপুরে জহুরুল হাসানসহ অন্যান্য আসামিরা বে-আইনি জনতা গঠন করে বাদীর বসতবাড়ির সামনে উপস্থিত হন।
এ সময় তারা বাদী তামান্না ইয়াসমিন ও তার স্বামী শহিদুল হাসান শাহীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। গালিগালাজে বাধা দিলে মামলার ১ নম্বর আসামি ইউসুফ আলী হত্যার নির্দেশ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার পর মামলার ২ নম্বর আসামি জহুরুল হাসান হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদীর স্বামীর ব্যবহৃত নতুন এসপি হোন্ডা ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করেন, যাতে আনুমানিক এক লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
বাদী ভাঙচুরে বাধা দিলে জহুরুল হাসান তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মামলার ৫ নম্বর আসামি হাফিজা বেগম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরেন। একই সময় মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান সনি ও রফিকুল হাসান চন্দন বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে ফুলা ও ছেঁড়া জখম সৃষ্টি করেন। এছাড়া মামলার ৫ ও ৬ নম্বর আসামি হাফিজা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার সারিকা বাদীর কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটান।
বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে আসামিরা বাদী, তার স্বামী ও তাদের সন্তানদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তামান্না ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে সার্জারি বিভাগে তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সুস্থ হওয়ার পর থানায় মামলা করতে গেলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে বাদী আদালতে আসামিদের নাম উল্লেখ করে সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বোয়ালিয়া মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তামান্না ইয়াসমিন জানান, মামলা দায়েরের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মামলা তুলে না নিলে তাকে ধর্ষণ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার দুই সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা এবং তার স্বামীকে গুলি করে হত্যার প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি নিজের বসতবাড়ি ছেড়ে নগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মামলার ২ নম্বর আসামি জহুরুল হাসান তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানিয়ে তিনি বোয়ালিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো সেটি আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীর স্বামী শহিদুল হাসান শাহী বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা তার নামে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এরপরও যেকোনো সময় প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল সনদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।









