রাজশাহী

রাস্তার কাজে চাঁদা চাইতে গিয়ে পিটুনির শিকার বিএনপিকর্মী, রামেকে ভর্তি

নিউজ ডেস্ক১ জানুয়ারি ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় রাস্তার কাজের সাইটে চাঁদা চাইতে গিয়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন এক বিএনপিকর্মী। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

পিটুনির শিকার ব্যক্তির নাম আতাবুর রহমান। তিনি নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লার বাসিন্দা এবং নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় আতাবুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় একটি রাস্তার নির্মাণকাজ চলছিল। ওই কাজের মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে মাটি কাটার কাজ পান স্থানীয় যুবদলকর্মী আজাদ আলী। আজাদ আলীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পরপরই আতাবুর রহমান তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।

আজাদ আলী বলেন :আজই কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যেই আতাবুর এসে বলে, কাজ করলে তাকে টাকা দিতে হবে, না হলে ভেকু ভেঙে দেবে। আমি বলেছি—আমি যেমন বিএনপি করি, সেও বিএনপি করে, তাহলে কিসের টাকা? এরপর তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব হোসেন পবা থানায় গেলে আতাবুর তার লোকজন নিয়ে থানার সামনে তাদের ওপর হামলা চালান। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা থানায় অবস্থান করেন। তবে পুলিশ উভয় পক্ষকে মীমাংসার পরামর্শ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আজাদ আলী অভিযোগ করেন : আতাবুর রহমান এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন এবং বিএনপির কয়েকজন নেতা তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন : আজাদ যুবদলকর্মী এবং আতাবুরও বিএনপিকর্মী। তার কাছে চাঁদা চাইতে যাওয়ার তো কোনো যুক্তি নেই। ৫ আগস্টের পর সে এলাকায় নানা অত্যাচার করেছে। যারা তাকে আশ্রয় দেয়, তারা লাভবান হয়—এমন কথাও শোনা যায়।

পুলিশের বক্তব্য পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন :মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”