নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে সর্বশেষ গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মুষলধারে বৃষ্টি হয়। ওই দিন দুপুরে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে গোটা নগরী হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।

- কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসন হতে আরো দিনকয়েক লেগে যায়। বর্ষাকাল বলে নগরবাসী সেটা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এই শুষ্ক মৌসুমে নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কোনোভাবেই মানতে পারছে না তারা।

বছর দুয়েক আগে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ করে নগরীতে ৬৬ কিলোমিটার নালা (ড্রেন) নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও সবমিলিয়ে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করে গত তিন বছরে ১৫১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করে রাসিক। কিন্তু এসব কাজের শুরুতেই অনিয়ম দেখা যায়। ওই সময় কোথাও কোথাও নালা ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তখন কালের কণ্ঠসহ একাধিক গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। দুই বছরের মাথায় এখন নালা ভেঙে বা বন্ধ হয়ে গিয়ে পানি উপচে আসছে রাস্তায়।
নগরবাসী বলছে, সে অনিয়মের পরিণতিতেই এখন এই শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর রেলগেট থেকে বর্ণালীর মোড় পর্যন্ত রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটির একাংশে মাস দুয়েক ধরে জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। রাস্তার পাশের নালাটির ভেতরের অংশ ভেঙ্গেচুরে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। নালার ওপরে দেওয়া পাতলা টিনের স্লাবগুলো কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে। কোনো কোনোটি চুরি হয়ে গেছে। নালার ওপর দেওয়ার কথা ছিল লোহার স্লাব। এ ছাড়া নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কারও করা হয় না।

কাদিরগঞ্জ এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান পিন্টুর দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়া নালা ভেঙে নোংরা পানি উপচে আসছে রাস্তায়। রাস্তার ওই অংশে অন্তত দুই মাস ধরে জলাবদ্ধতা রয়েছে।
- ওই ব্যবসায়ী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এভাবে আর কত দিন কাদা-পানি নিয়ে থাকতে হবে আমাদের। এখন তো বৃষ্টি নাই, তাহলে ড্রেনের পানিই কি আমাদের নিত্যসঙ্গী?’
আজগর হোসেন নামের একজন পথচারী বলেন, ‘ড্রেনের পানি রাস্তা দিয়ে নিষ্কাশিত হবে কেন? এটি সিটি করপোরেশনের গাফিলতি। তাদের অনিয়মের কারণেই আজ ড্রেনগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে নগরীজুড়ে ১৪টি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ কিলোমিটার নালা নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করে নগর সংস্থা। এর বাইরে গত তিন বছরে সবমিলিয়ে নগরীতে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সব ড্রেনই এখন হুমকির মুখে।
- ড্রেনগুলোর অধিকাংশতে স্লাবও দেওয়া হয়নি। ফলে শিশুদের ঝুঁকি রয়েছে সবচেয়ে বেশি। এসব ড্রেনের মধ্যে পড়ে গিয়ে ঢাকার মতো বড় দুর্ঘটনা রাজশাহীর শিশুদের কপালেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নগর সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, কাজটি পেয়েছিল ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মো. আবুল হোসেন এন্টারপ্রাইজ একাই পেয়েছিল প্রায় সাত কোটি টাকার তিনটি কাজ। বাকি ১১টি কাজ পেয়েছিলেন ১১ জন ঠিকাদার। বাস্তবে কাজগুলো করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলররাই। তাঁদের খুশি করতেই তত্কালীন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) কাজগুলো ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছিলেন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম-উল-আযিমের সময় অধিকাংশ কাজই হয়েছে।
জানতে চাইলে নগর সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘নালা নির্মাণের কাজগুলো একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে কোথাও কোথাও এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে। আমরা সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেব। যেখানে পানি রাস্তা দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে, সেগুলোও ঠিক করা হবে। ’
স/আর









