রাজশাহী

রামেবির এক হাজার কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক১ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) স্থাপন প্রকল্পের এক হাজার কোটি টাকার ৪টি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দরপত্র পক্রিয়ক বাতিল ও মূল্যায়ন কমিটি (টেক) পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মেসার্স তাবাস্সুম এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্টানটির সত্ত্বাধিকারী মো. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।

চিঠিটির অনুলিপি দেয়া হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে।
এতে বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের অধীনে সম্প্রতি ৪ টি দরপত্র ইজিপির মাধ্যমে আহ্বান করা হয়। উক্ত কাজসমূহ মূল্যায়নের লক্ষ্যে টেক নামে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ওই মূল্যায়ন কমিটিতে একই প্রকল্পে ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেন রিটুকে সদস্য করা হয়। যা, পিপিআর ২০২৫ এর ১১(৫) বিধি পরিপন্থি।

বিধি অনুযায়ী কেবলমাত্র সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ কোনো দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারবেন। রেজাত হোসেন রিটু রামেবির কোনো কর্মকর্তা নয়। তিনি প্রকল্পের একজন বহিরাগত চুক্তিভিত্তিক পরামর্শক মাত্র। তাই বিধি মোতাবেক তিনি কোনভাবেই মূল্যায়ন কমিটির সদস হতে পারেন না।

আবেদনে আরো বলা হয়েছে, পিপিআর-২০০৮ এবং পিপিআর-২০২৫ এ দরপত্র প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব পরিহার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটিতে প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক সদস্য হলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে যায়। কারণ, ক্রয় পরামর্শক প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট থাকেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যের নৈতিক মানদণ্ড অত্যন্ত উচ্চ হওয়া আবশ্যক।

তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতমুক্ত থেকে শুধুমাত্র দরপত্র দলিলে উল্লিখিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো প্রকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক স্বার্থ, প্রশাসনিক চাপ বা বাহ্যিক প্রভাব যেন তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে তাকে সচেতন ও দৃঢ় থাকতে হবে এবং তিনি দুর্নীতি মুক্ত থাকতে হবে।

কিন্তু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ চলমান আছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়কে প্রভাবিত করার অনেক অভিযোগ রয়েছে। তারপরও তাকে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে রাখার অর্থ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া। রামেবির আহ্বানকৃত চারটি দরপত্রের সম্মিলিত কাজের ব্যয় হবে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা।

এতবড় অর্থের দরপত্র মূল্যায়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তার মত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রেখে দরপত্রের স্বচ্ছতাকে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এতে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আবেদনকারী এই সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে গঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠন এবং দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেবির প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেনের রিটু বলেন, ‘আমি কোনো কথা বলতে পারব না। অনিয়ম করার কোনো কোনো সুযোগ এখানে নাই।”