রাজশাহী

রামেকে ভবনে রডের পরিবর্তে ব্যবহৃত বাঁশ সরানো হলো গোপনে

নিউজ ডেস্ক১ নভেম্বর ২০১৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নির্মাণ করা ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে এমন সংবাদ সিল্কসিটিনিউজ ডট কমে প্রকাশের পরে আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে গোপনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাঁশ।

আজ সকালে সরজমিনে দেখা গেছে বাঁশ তুলে ফেলা হয়েছে। বাঁশের জায়গাটা বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। এর আগে গতকাল ভাঙা স্থানে প্লাস্টার করার দৃশ্য দেখা যায়। প্লাস্টারের ওপরে আবার পুরনো কাপড় দিয়ে ঢেঁকে দেওয়া হয়। আবার বাঁশের ওপরে পত্রিকা দিয়ে প্লাস্টার করা হয়। চার তলার নতুন ভবনে তিন তলার লিফটের সামনের অংশের টাইলস উঠে যাওয়ার পরে সেখানে বাঁশ দেখা যায়।

 

গতকাল সোমবার এ সংবাদটি সিল্কসিটি নিউজে প্রকাশের পরে আজ মঙ্গলবার রামেকের সিনিয়র চিকিৎসক দাইমুদ্দিনসহ আরো চিকিৎসকগণ পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

এ সময় চিকিৎসকরা বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেছে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক। যে প্রতিষ্ঠান এই কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

sud_8101-copy

এর আগে গত ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল আমিন উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০০০ শয্যার নতুন ভবনটি। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তলা এ ভবনটি নির্মাণ করা হয় হাসপাতালের পুরনো ভবনগুলোর মাঝখানে। অর্থাৎ হাসপাতালে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে। কিন্তু এই ভবনের লিফটে সামনে ভাঙা স্থানে বাঁশ দেখা গেছা।

 

তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এ হাসপাতালটির নতুন ভবনটি এখন চরম অনিরাপদ। এ ভবনে রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হলেও এটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভবনটি ভালো করে একবার কতৃপক্ষের দেখা দরকার। তাহলে কি কি সমস্যা আছে তা উঠে আসবে। এ বিষয়টি ভালো করে তদন্ত করে দেখতে হবে।

 

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, রডের পরিবের্ত বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি অনেক ভালো ভাবে প্রচার হয়েছে। আমরা আজ সকালে সেই স্থান পরিদর্শন করে দেখেছি যে দুই দেওয়ালের মাঝে লিফট লাগানোর পরে কিছু অংশ ফাকা থাকে। সেই অংশ বন্ধ করার জন্য বাঁশ ব্যবহার করেছে তারা।

 

তিনি আরো বলেন, অনেক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারা এসে দেখেছে। তারা বলছে তেমন সমস্যা নাই। তার পরেও আমরা আরো সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গণপূর্ত বিভাগের লোকজন এসে আরো ভালোভাবে দেখবে।

 

স/আ