রাজশাহী

রামেকে ইন্টার্নীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধসহ ১৩ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

নিউজ ডেস্ক৬ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্নী চিকিৎসকদের সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুরোধ, চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা রোধ, দুর্নীতি বন্ধ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

 
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জাননো হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তবে জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ রায়হান স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

 

এর আগে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীরা নগরীর কোর্ট শহীদ মিনার চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার নামে ইন্টার্নী চিকিৎসকদের তাণ্ডব, হাসপাতাল পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, সকল দুর্নীতি অনিয়ম রোধ ও সু-চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে স্লোগানে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক জামাত খান।

 
স্মারকলিপি প্রদান শেষে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, দালাল চক্রের কারণে রামেকে চিকিৎসাসেবা ভেঙ্গে পড়েছে। চিকিৎসার নামে ইন্টার্নী চিকিৎসকরা রোগীদের সঙ্গে চরম দু:ব্যবহার করছেন। সামান্য প্রতিবাদ করলে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা, নির্যাতন এমনকি পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে রাজশাহীর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

 

এ সময় পরিষদ নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে হাসপাতালের চিকিৎসার মান নিশ্চিতের দাবিতে ১৩ দফা অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগে বলা হয় চিকিৎসকদের যেখানে সেখানে প্রাইভেট প্যাকটিসে মত্ত থাকা, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সহায়তায় রাজশাহীতে ব্যঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা বেসরকারি  ক্লিনিক হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি। আর সেখানে এসব চিকিৎসকরা মোট অংকের টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

 

এছাড়া স্মারকলিপিতে চিকিৎসার মান বৃদ্ধি, ওষুধ সরবরাহ, এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা ফি নির্ধারণ, ওষুধ চুরি রোধ, অবৈধ ক্লিনিক প্যাথলজি বন্ধ, কথিত ওষুধ কোম্পানিসমূহ অবিলম্বে বন্ধেরও জোর দাবি জানানো হয়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন কোম্পানীর ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে।

 

ওয়ার্ডে কর্তব্যরত রেজিষ্টার, চিকিৎসক ও ওষুদের তালিকা টানানোর দাবিও জানানো হয়। হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

 

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, পবা উপজেলা জাপার সভাপতি আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট অংকুর সেন, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আলহাজ হারুনার রশিদ, রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মহেষচন্দ্র, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক এম. শরিফ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহীনা বেগম, নারী সাংবাদিক আফরোজা খাতুন হেলেন, জাতীয় আদিবাসী পরিসদের দফতর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেবম্ব্রন, যুবমৈত্রীর সহসভাপতি শাহীন শেখ,  জামিল হোসেন জনি প্রমুখ।

 

উল্লেখ্য, এ স্মারকলিপির অনুলিপি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সাংসদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারকেও প্রদান করা হয়।
স/শ