নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত শিথিল করার দাবিতে নির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার সকাল খেকে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া, সাধারণ নিয়োগ পরীক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষককেও লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টার পরীক্ষায় বিবিলওগ্রাফার কাম রেফারেন্স সহকারী দুজন ও ক্যাটালগার একজনের পদের বিপরীতে মোট ৭০ জন অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা দিতে ঢুকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ও মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের নেতেৃত্বে নেতাকর্মীরা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এসময় কয়েকজনকে লাঞ্চিতও করা হয়।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা ফটক, বিনোদপুর ফটকে মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার্থীদের ধাওয়া, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তারা। বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার সাংবাদিকেদের বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়োগ না দিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের চাকরি দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই আমরা এই নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় আসতে হবে, নয়ত আন্দোলন চলবে। ‘
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য মতে, ১০-১১টায় ডেটা অ্যান্ট্রি অপারেটরে ২০ পদের বিপরীতে ৩১০০ জনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তারা পরীক্ষা দিতে ঢুকতেই পারেনি। তবে আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের কাছে গেলে তাদেরকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ক্যাম্পাসের কাজলা গেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ বিকেল ৩-৪টায় গ্রন্থাগার সহকারী ৪ পদের বিপরীতে ১৫০ জনের পরীক্ষা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ”একদল যুবক শ্রেণির মানুষ যারা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে এসেছে। এসে সকাল সাড়ে ৮টার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে বোঝা যায় যে, আওয়ামী লীগের লোকজনই বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করে যাব। এ জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছি। ”
তবে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ”ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি খারাপের সংবাদ শুনে আমরা সকালে যাই। পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয় সে জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে কোনো পরীক্ষার্থীকে বের করে দিইনি। এখন আমরা চলে এসেছি। ”
এ ব্যাপারে জানতে উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, বহিরাগতরা এসে বিশৃঙ্খলা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে।
আমরা পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নেওয়া চেষ্টা করছি। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর রাবি স্কুলের একটি নিয়োগ পরীক্ষার সাক্ষাৎকার বন্ধ করে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।
স/আর









