রাজশাহী

রাজশাহী-১: হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর লড়াইয়, জয় নির্ধারণ আদিবাসীদের ভোটে

নিউজ ডেস্ক৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী জেলার ৬টি আসন। এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি আসনেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীই হলেন হেভিওয়েট। বাকি ৫টি আসনের কোনটিতেই দুজনই হেভিওয়েট প্রার্থী কোথাও নাই। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বিই প্রার্থী হলেন জনপ্রিয়। যদিও এখানে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে। তাঁরা হলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াত ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল লড়াই হবে। তবে এখানে আদিবাসীদের ভোটে। এই আসনের দুটি উপজেলাতেই বিপুল সংখ্যক আদিবাসীর বসবাস। তাঁদের অধিকাংশই মূলত আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বাকিরা বিএনপি সমর্থক। ফলে আদিবাসীরা যেদিকে গড়াবেন, জয়ের পাল্লা সেদিকেই গড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ প্রার্থী হলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াত ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মীর মোঃ শাহজাহান ও স্বতন্ত্র আল সাআদ। এই পাঁচজনের মধ্যে প্রচারণায় চালাচ্ছেন তিনজন। তাঁরা হলেন, শরিফ উদ্দিন, মুজিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান। তবে তিনজনের মধ্যে লড়াই জমে উঠেছে শরিফ উদ্দিন ও মুজিবুর রহমানের মধ্যে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, রাজশাহীর এই আসনটিতে মোট ভোটার হলো-৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে নারী দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন। আর পুরুষ হলো দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন। ৪টি পৌরসভা ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ৭৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ আসনটিতে এবার এই প্রথম লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে এখানে বরাবরই বিএনপির অবস্থান শক্ত।

তবে এবার দুই প্রার্থীই শক্তিশালী হওয়ায় ভোটের লড়াই জমে উঠেছে বেশ।
সূত্র মতে, রাজশাহীর এই আসনটিতে সবচেয়ে আদিবাসীদের বসবাস বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৩০ ভাগ হলো আদিবাসী। আর এই আদিবাসীদের একটি বড় অংশ হলো আওয়ামী লীগের সমর্থক। আর বাকিটা হলো বিএনপি সমর্থক। ফলে এই আদিবাসীদের ভোটের দিকেই নজর রাখছেন প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থীই। তাদের ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।

গোদাগাড়ীর ঋশিকুল এলাকার বাসিন্দা আলি আসগর বলেন, ‘এবার মনে হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। তবে জয় নির্ধারিত হতে পারে আদিবাসীদের ভোটে। ফলে ভোট পেতে তাঁদের কাছে দুই দলের লোকজনই যাচ্ছেন।’