নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের পিংকু হোস্টেলে মাঝ রাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শিবির সন্দেহে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে চ্যালেঞ্জ করাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে রাতের আঁধারের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। ফলে রাত ১২টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে পেটান বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসময় তারা বেশ কয়েকটি কক্ষের আসবাবপত্রও ভাচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি খেলায় বাংলাদেশ বিজয়ী হলে রামেক পিংকু হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা উল্লাস করে। এ সময় ছাত্র শিবিরের কর্মীরা সেখানে কটূক্তি করেন। এতে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। রাতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়ছে বলেও জানান রাজপাড়া থানার এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে হোস্টেলের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন রাজপাড়া থানা পুলিশ। ঘটনার সময় রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে থানার টেলিফোন নম্বরে ফোন করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কনস্টেবল সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, হোস্টেলে ঝামেলা হচ্ছে-তাই অনেক পুলিশ সেখানে রয়েছে।
তবে ছা্ত্রলীগের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কটুক্তির পরে পরে পিংকু হোস্টেলে রাত ১১টার দিকে শিবির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে-এমন খবরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তাদের ওপরে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে।
তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষের সময় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকেও পেটাতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিপুল পরিমাণ পুলিশ পিংকু হোস্টেল ঘিরে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেরে হোস্টেলে অভিযান শুরু করে। এ নিয়ে কলেজ হোস্টেল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র মতে, পিংকু হোস্টেলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রশিবিরের আধিপত্য ছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়তে থাকে শিবিরের নেতাকর্মীরা। তার পরেও সেখানে গোপনে শিবিরের নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয় বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স/আর









