নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুতুড়ে খো খো লীগের (একটি খেলা) আয়োজন করার প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রাজশাহীর ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, অপ্রচলিত খো খো লীগ আয়োজনের কথা বলা হলেও আদৌ সেই খেলা আয়োজন করতে পারেনি সংস্থাটি। প্রচলিত খেলায় যেখানে বর্তমান কমিটির সদস্যরা আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়, সেখানে খো খো নামের একটি অপ্রচলিত খেলা আয়োজনের নামে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করার ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। এতে সংস্থাটি রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের ভামূর্তি নষ্ট করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন এখানকার ক্রীড়া সংগঠকরা। এ নিয়ে তাঁরা রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। আগামী বছরের শুরুতেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন উপলক্ষে সদস্য পদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই কাগজে-কলমে খো খো লীগ আয়োজনের নাম করে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধিনে খো খো (খেলা) লীগ আয়োজন করা হবে বলে প্রথমে ক্লাবগুলোকে নিয়ে কাগজে-কলমে বাছাই পর্ব করা হয়। এর পর রেজুলেশন করে একটি লীগ কমিটিও গঠন করা হয়। সেই কমিটির সভাপতি করা হয় সংস্থাটির সহসাধারণ সম্পাদক নূরুল হককে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সহসাধারণ সম্পাদক খাইরুল আলম ফরহাদকে। এই কমিটি গত জুন মাসের শেষের দিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাফেলেইড ভুক্ত ১৬টি ক্লাবকে খো খো খেলার আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের মাঝে এন্ট্রিও বরাদ্দ দেয়। সেই অনুযায়ী প্রত্যেক দলকে খেলায় অংশ গ্রহণের জন্য খরচ বাবদ ১১ হাজার ২৫০ টাকা করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আদৌ পরে আর সেই খেলার আয়োজনই করেনি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুটি ক্লাবের সভাপতি জেলা ক্রীড়া সংস্থার দেওয়া অর্থ ফেরতও দেন। তাঁরা হলেন, রাজশাহী ইমপেরিয়াল ক্লাবের সভাপতি মোসাদ্দেকুল কুদ্দুস সেলিম ও উত্তরণ স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সিদ্দিকী শিবলী।
তাঁরা গত ২৪ জুন জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো ফেরত দিয়ে সংস্থার সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফ উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন।
ওই অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, খো খো লীগের নামে তাদের ১১ হাজার ২৫০ টাকা করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আদৌ ক্রীড়া সংস্থা ওই লীগ আয়োজন করতে পারেনি। উপরুন্ত লীগ আয়োজনের নামে ভিন্নি খরচের কথা বলে আরো লক্ষাধীক টাকা আত্মসাত করা হয়।
এদিকে খো খো খেলার নামে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে রাজশাহীর আরো কয়েকটি ক্লাবের সভাপতির পক্ষ থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। গত ২৬ মে করা ওই অভিযোগে দাবি করা হয়, অপ্রচলিত খো খো লীগের নামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাফিউস সামস প্যাডি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পায়তারা করছেন। অথচ প্রচলিত ক্রিকেট, ফুটবলের মতো প্রচলিত খেলাও বর্তমান সংস্থা নিয়মিত আয়োজন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খো খো কমিটির সভাপতি নূরুল হক দাবি করেন, লীগ আয়োজন হয়েছে। তাই টাকাগুলো খরচ করা হয়েছে। কোথায় লীগ আয়োজন হয়েছে-এর কোনো ছবি বা আয়োজিত খেলাল কোনো ডকুমেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, খেলার স্কোর কার্ড আছে। এটিই প্রমাণ।
জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাফিউস সামস প্যাডিও দাবি করেন খো খো খেলা হয়েছে। তাই টাকাও খরচ করা হয়েছে।
তবে খো খো খেলা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ বলেন, এই ধরনের অভিযোগ হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স/মি










