নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর উপশহরে অবস্থিত শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ডিগ্রি কলেজ অধক্ষ্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। রোববার দুপুরে নগরীর কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পরে জানাজানি হলেও ঝুলানো তালা খোলা হয়নি এখনো। তবে তালা ঝুলানোর সময় কলেজ অধ্যক্ষ তার কক্ষে ছিলেন না।
কলেজ সূত্র ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি কলেজটি সরকারি হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন আব্দুস সাত্তার। সরকারিকরণ হওয়ার পর সরকারিভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার শিক্ষাসচিবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যা এখনো চলমান।

বর্তমানে এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাস থেকে কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের আদালতে রিটের কারণে কলেজের শিক্ষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার গত ২৪ ডিসেস্বর অবসর গ্রহণ করেন। তার চাকরীর মেয়াদকাল শেষ হলে সরকারিভাবে নিযুক্ত একরামুল হক অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে কলেজ পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু গত ২৫ ডিসেম্বর তাকেও সাতক্ষীরা কলেজে বদলি করা হয়।
বদলির আদেশ জারি হওয়া সত্বেও তিনি কলেজ থেকে বিদায় নেননি। আবার কলেজের বিভিন্ন দফতরি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন না তিনি। এতে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কলেজ শিক্ষক-কর্মচারিদের। এ নিয়ে রোববার দুপুরে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সদস্যরা অধ্যক্ষ একরামুল হকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি জানা জানি হলেও সোমবার পর্যন্ত সে তালা খোলা হয়নি।
এদিকে অধ্যক্ষ একরামুল হক বদলি না হওয়ায় সরকারিভাবে নতুন করে অধ্যক্ষও কলেজে যোগদান করতে পারছেন না। অধ্যক্ষ একরামুল হকের পরিবর্তে কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক আব্দুল খালেক সরকারকে সরকারীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু কলেজের বদলিকৃত অধ্যক্ষ একরামুল হক দায়িত্বভার না ছাড়ায় আব্দুল খালেকও অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এতে ক্ষোভে ও রাগে রোববার দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। যদিও এ সময়ে অধ্যক্ষ কলেজে ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ একরামুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে ০১৭১১২৩৩১২৫ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স/আর









