রাজশাহী

রাজশাহীর নিউ উত্তরা কমিউনিকেশন: মাসে ৩৫ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার

নিউজ ডেস্ক২৬ জানুয়ারি ২০১৭২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে অবৈধভাবে ৮৫টি চ্যানেল সম্প্রচার করতে গিয়ে মাসে অন্তত ৩৫ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করে আসছি নগরীতে ‘নিউ উত্তরা কমিউনিকেশ ‘ নামের কেবল অপারেটর প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই নগরীর পাঠানা পাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই ক্যাবল আপারেটরটির ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, ‘নিউ উত্তরা কমিউনিকেশ‘ নামের কেবল অপারেটর কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে আভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে এ আভিযান চালানো হয়।

 

  • এসময় এ আভিযানে নিউ উত্তরা কমিউনিকেশন ক্যাবল আপারেটর কার্যালয়ের ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের প্রত্যেককে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

এছাড়াও ওই কর্যালয়ের সমস্ত যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। তবে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাচারের মূল নায়ক প্রতিষ্ঠানটির মালিক এহতেশামুল ইসলাম  পরিস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যান।

 

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা মিঠু, তার সহযোগী আতিকুর রহমান (২৭), সাগর আলী বাপ্পি (২৪), পারভেজ আলী (২৬), সাগর (২২), শামীম হোসেন (২৮) ও জহির হোসেন (৩৫)।

 

র‌্যাবের ভ্রাম্যান আদালতের বিচারক সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, অভিযান পরিচালনার সময় ৮৫টি চ্যানেল পাইরেসি ও ডাউনলিংকিং এ ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এহতেশামুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

 
র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহি ম্যাজিট্রেট সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভারত থেকে বিভিন্ন চ্যানেল অবৈধভাবে ডাউনলিং করে-তা রাজশাহীতে সম্প্রচার করছিল নিউ উত্তরা কমিউনিকেশন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। এছাড়াও কিছু অবৈধ চ্যানেলও ডাউনলিং-এর মাধ্যমে সম্প্রচার করছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। এতে করেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। আর এসব চ্যানেল সম্প্রচারের জন্য ভারতীয় চ্যানেল মালিকদের টাকা পাঠানো হতো হুন্ডির মাধ্যমে।’
ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘অবৈধভাবে চ্যানেল চালাতে গিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রতি মাসে অন্তত ৩৫ লাখ টাকা ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে আসছিল-এমন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির ৭ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে এক বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পলাতক থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।’

স/আর