রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে সুদ কারবারিদের দৌরাত্ম, ৮ লাখে ৩০ লাখ টাকা দিয়েও হয়নি পরিশোধ

নিউজ ডেস্ক১৬ জুন ২০২০৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীর দরিখরবোনা এলাকার একটি পরিবার সুদের জালে পড়ে এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। নগরীর মায়া গ্রুপের কাছে আট লাখ টাকা মাসিক ২০ পার্সেন্ট হারে সুদে নিয়ে পরিশোধ করেছেন ৩০ লাখ। তার পরেও পরিশোধ হয়নি মূল টাকা। সেই টাকা পরিশোধ না করায় আলিউল হোসেন বিপ্লব নামের ওই ব্যক্তিকে একটি সাজানো চুরির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর আবারো টাকার দাবিতে বিপ্লবের ছোট ভাই ভাই তোফাজ্জল হোসনের নামে দেওয়া হয়েছে ছুরিকাঘাতের মামলা।

ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সুদের টাকা আদায়ে দুটি সাজানো মামলায় ফাঁসনোর চেষ্টা করা হচ্ছে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারটিকে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসির সঙ্গে এলাকাবাসীর উচ্চ-বাচ্যের ঘটনাও ঘটে।


এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জুয়েলারি ব্যাবসায়ী নগরীর দরিখরবোনা এলাকার আলিউল হোসেন বিপ্লব নগরীর বাসার রোড এলাকার বাসিন্দা ও হিজড়া মায়া গ্রুপের ৬-৭ জনের নিকট থেকে আট লাখ টাকা সুদের ওপর নেন। প্রতি লাখে মাসে ২০ হাজার টাকার সুদ হিসেবে দুই বছর ধরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সুদ প্রদান করেন বিপ্লব। কিন্তু তার পরেও সেই টাকা পরিশোধ হয়নি তাঁর। এরই মধ্যে টাকার দাবিতে গত ২০ এপ্রিল বিপ্লবকে বাড়িতে আটকে রেখে মায়া বাদী হয়ে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন সম্প্রতি। সেই মামলায় বিপ্লব এখনো জেলহাজতে রয়েছেন।

বিপ্লবের ভাই তোফাজ্জল হোসেন রুবেলে অভিযোগ করে জানান, বিপ্লবকে জেলহাজতে পাঠানোর পরেও বার বার আমাদের ফোন করে মায়া এবং তার লোকজন টাকা নেওয়ার জন্য রুবেলসহ বাড়ির অন্য সদস্যদের চাপাচাপি করতে থাকেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা সুদের ওই টাকা পরিশোধ করতে না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মায়াসহ তাঁর লোকজন। এরই মধ্যে গত ১২ জুন মায়ার বোন ইতির ছেলে ইমরানের সঙ্গে জুয়া খেলা নিয়ে বাসার রোড এলাকায় একটি মারামারি ঘটনা ঘটে জুয়াড়িদের। কিন্তু ওই মামলায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দরিখরবোনা এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন রুবেলকে আসামি করা হয়।

রুবেলের চাচা মোস্তাফিজুর রহমান পরশ অভিযোগ করে বলেন, আলিউল হোসেন বিপ্লবের টাকা পরিশোধ করার জন্য ওর পরিবার কিছু জমিও বিক্রিও করেও টাকা দিয়েছে মায়া গ্রুপকে। সবমিলিয়ে ৮ লাখ টাকার স্থলে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৩০ লাখ টাকা। সেই টাকা দিতে গিয়ে পরিবারটি এখন প্রায় নিঃস্ব। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। এখন আর টাকা দেওয়ার মতো কোনো সামাথ্য নাই তাদের। কিন্তু এরপরও সেই টাকা পরিশোধ হয়নি বলে দাবি করে মায়া এবং তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে বিপ্লবের পরিবারকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

তবে মায়া দাবি করেছেন, তিনি টাকা এখনো ৮ লাখ পাবেন। তার কাছে বিপ্লবের একটি চেকও আছে। সেই টাকা না দিতেই একের পর এক মায়াসহ তার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এ কারণেই মামলা হয়েছে

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘ টাকা নিয়ে একটি ঝামেলা আছে দুই পক্ষের মধ্যে। এ নিয়ে দুটি মামলাও হয়েছে। মামলা দুটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স/আর

ট্যাগ: