রাজশাহী

রাজশাহীতে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত নিয়ে আলোচনা, সাধারণ মানুষের মাঝে জমেনি আগ্রহ

নিউজ ডেস্ক২৯ ডিসেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন শেষে এখন জমা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এ নিয়ে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এসব আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে এখনো তেমন কোনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন থেকে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তাঁদের মধ্যে আলোচনায় আছেন মূলত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন ও জামায়াতের মনোনীত দলটির নায়েবে আমির মজিবুর রহমান। শরিফ উদ্দিন গতকাল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উৎসাহ-উদ্দিপনার মাঝে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছন। দুপুর ১২টার দিকে তিনি রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আগের অস্থিতিশীলতা কেটে গেছে। বর্তমানে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশ নির্বাচনমুখী হচ্ছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি আশাবাদী।”

রাজাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনুসর রহমান বলেন, ‘‘ভোটের তেমন কোনো কানা-ঘুষাও পাচ্ছি না। মানুষের মাঝে আগ্রহ কম।”
রাজশাহী-২ (সদর) এখানে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তাঁদেও প্রচারণা চালিয়েছেন বা আলোচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনু এবং জামায়াতের নতুন মুখ মহানগর ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। আজ সোমবার মিজানুর রহমান মনোনয়নতপত্র জমা দিবেন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন থেকেও ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে আলোচনায় আছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন এবং জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। আজ সোমবার শফিকুল হক মিলন মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

পবার পারিলা এলাকার বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন বলেন, প্রার্থী তো দুজনের নামই শোনা যাচ্চে। কিন্তু ভোট কি হবে আদৌ? ভোট নিয়ে তেমন আলোচনা নাই।’
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন আটজন প্রার্থী। এই আসনেও বিএনপিও জামায়াতের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে সাধারণ ভোটারদেও মাঝে এখনো ভোট নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি বলেও জানিয়েছেন হামিরকুৎসা এলাকার আজিজুল ইসলাম। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ডিএম জিয়াউর রহমান এবং জামায়াত থেকে পেয়েছেন ডাক্তার আব্দুল বারী সরদার।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ আসনটি ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনা ও কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ করে শেষ সময়ে এসে জামায়াত প্রার্থীপরিবর্তন নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মিজান মাহি নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, আগের প্রার্থীই নির্বাচনে পট্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন।

জানা গেছে, এখানে জামায়াতের আগে ঘোষণাকৃত প্রার্থী ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে শেষ সময়ে গতকাল রবিবার প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। তার স্থানে পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মনজুর রহমানকে জমায়াতের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন নিয়েও শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা ছিলো। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে এ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপক আন্দোলনও করেছিলেন শুরু থেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের প্রতিই আস্থা রেখেছে দলটি।

এদিকে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসন থেকে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তবে তাদের মাঝে আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হককে নিয়ে আলোচনা আছে বেশি। তবে চারঘাটের নন্দনগাছী এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ভোট নিয়ে এখনো তেমন কোনো আলোচনা শুনছি না। দলীয় যারা নেতাকর্মী তারাই টুকটাক আলাচোনা করছেন। আমরা সাধারণ ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নাই।’

স.আর