রাজশাহী

রাজশাহীতে বহুতল ভবন নির্মাণ ঘিরে আতঙ্ক, বাড়ি ধসের শঙ্কায় পরিবার

নিউজ ডেস্ক১৮ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণকাজ পরিচালনা করায় পাশের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে গেছে, মাটির নিচ থেকে পানি ও বালু বের হচ্ছে এবং পুরো বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী তামান্না সুলতানা জানান :

তিনি সাবেক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারের মেয়ে। তাদের বাড়ি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার কাজিহাটা এলাকায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত গলিতে। বাড়ির পাশেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “ড্রিম স্মিথ” এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজান যৌথভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

অভিযোগে তিনি বলেন : নির্মাণকাজ শুরুর সময় কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই গভীর মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-তে অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে মামলা ও আইনজীবীর নোটিশ পাঠানোর পর কর্তৃপক্ষ ২০ ফুট ইস্পাতের পাতের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ১৩ ও ২০ ফুটের মিশ্র ইস্পাতের পাত ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরও জানান, পুরো জমিকে তিন ভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে মাটি কাটার কথা থাকলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাতারাতি একসঙ্গে দুই ভাগের মাটি কেটে ফেলে। এলাকাবাসী ও পরিবার বাধা দিলেও তারা তা আমলে নেয়নি। কাজিহাটা এলাকার মাটি নরম হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ষা শুরুর পর নিম্নমানের ইস্পাতের পাত ব্যবহারের কারণে সেগুলো মাটির চাপে সরে যায় এবং ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। একই সঙ্গে তাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ফেটে গিয়ে ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হতে শুরু করে।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, নির্মাণকারী পক্ষ ৪০ থেকে ৫০ ড্রাম ট্রাক বালি ফেলে ভরাট করার আশ্বাস দিলেও মাত্র ১১ ট্রাক বালি ব্যবহার করে। বর্তমানে সেই বালুও সরিয়ে নিজেদের ভবনের ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অল্প কিছু বাঁশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঘিরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তামান্না সুলতানা বলেন, “আমরা আরডিএ, থানা পুলিশসহ সব জায়গায় অভিযোগ করেছি। এমনকি মাননীয় মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাহেবও কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা কোনো নির্দেশই মানেনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্মাণকারী পক্ষ তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “যার বাড়ি ক্ষতি হয় হোক, বাড়ি পড়ে গেলে যাক, আমরা আমাদের ভবনের কাজ চালিয়ে যাব।

বর্তমানে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।