নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদ আরবের দেওয়া দুম্বার মাংস ট্রাক থেকেই উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা মোহনপুর ও দুর্গাপুর উপজেলার গরিব ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরণের জন্য বুধবার সন্ধ্যার পরে পাঠানো হয় মাংসগুলো। কিন্তু সব প্যাকেটেই মাংস ছিল কম। এতে করে মাংস বুঝিয়ে নিতে আসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং বিতরণের পর গরিব ও দুস্থ্যদের মাঝে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিক থেকে জেলার মোহনপুর ও দুর্গাপুর উপজেলাতে দুম্বার মাংস বিতরণ করা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আমাদের মোহনপুর প্রতিনিধি মোত্তাকিন আলম সোহেল জানান, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সৌদি আরবের দুম্বার মাংসের খোলা প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে মাংস নেই বললেই চলে। মাংস কম থাকায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ৬ টায় উপজেলা চত্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার উপস্থিত থেকে দুম্বার মাংসর প্যাকেট চেয়ারম্যান ও হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা বিতরণ করেন ।
মোহনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার জন্য ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয় হতে মোহনপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে সৌদি আরব দেওয়া দুম্বার ৬৪ কার্টুন মাংস স্ব-স্ব চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে অসহায়, দুস্থ, এতিমদের বিতরণের জন্য আসে।
তবে এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসা বিতরণকৃত মাংসের খোলা প্যাকেটের মধ্যে দেখেন অধিকাংশ প্যাকেটে ১ কেজি হতে দেড় কেজি মাংস ছিল। প্যাকেট মাংস কম থাকায় ক্ষোভে অনেকেই মাংসর কাটুন ফেরত দিতে চান। আবার কারো মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে এক এতিম খানার প্রতিনিধি বলেন, দেখতে বড় প্যাকেট হলেও ভিতরে সামান্য মাংস ছিল। এই সামান্য মাংস দিয়ে আমাদের এতিমখানায় সব এতিমদের একবেলাও খাওয়া হবে না।’
১নম্বর ধূরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমি জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছি কিন্তু এ বছর মাংসের কার্টুন ছিল খোলা এবং প্রত্যেক কার্টুন মাংসের পরিমাণ ছিল খুবই কম।’
৩ নম্বর রায়ঘাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মাংসের প্যাকেটে মাংস কম থাকায় কিছু প্যাকেট বদল করে নিয়েছি।’
৪ নং মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিন বিশ্বাস সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্যাকেট ছিল খোলা। মাংস পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য। এই সামান্য মাংস কিভাবে বিতরণ করব বুঝতে পারছি না।’
৬নং জাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেযারম্যান এমাজ উদ্দিন খান বলেন আমার ইউপিতে বরাদ্দকৃত ১০ টি মাংসের প্যাকেট প্রতিটি প্যাকেট ১ থেকে দেড় কেজি মাংস ছিল সর্বোচ্চ। আমি কিছু প্যাকেট প্রকল্প অফিস হতে বদল করে নিয়েছি।
উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সবার উপস্থিতে দুম্বার মাংস ট্রাক হতে গ্রহণ করেছি।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ছুটিতে চলে এসেছি। দুম্বার মাংস ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক দেখভাল করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরকে একাধিবার ফোন দিয়েও কল রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয় আমি নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এটা ইসলামী ব্যাংক গ্রহণ করে গুদামজাত করেন। নামেমাত্র প্যাকেট থাকবে, মাংস থাকবে না এটা হতে পারে না। অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









