নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর বাসার রোডে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে ত্রাস সৃষ্টির ঘটনায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জুলুসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ জুলুকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। তবে আদালত সোমবার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরদিকে দখলকৃত রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি পদ থেকেও জুলুকে বহিস্কার করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার অপর দু’জন হলেন- নগরীর খুলিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জুলুর (৪৮) ছেলে নাজমুল ইসলাম জিম (২৫) এবং ভাতিজা মো. মুন্না (২৩)।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিয়াম ইসলাম রাজ (১৯) নামের এক তরুণের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য তিনি বিকেলে বাসার রোড মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে নাদিম (২৯) নামের এক যুবক তাকে কিলঘুষি মারেন। এসময় নজরুল ইসলাম জুলুর ভাতিজা পরিচয় দিয়ে মো. সাকিব (২৪) নামের আরেক যুবক পিস্তল বের করে দুই রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করেন। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। গুলি ছোঁড়ার ওই ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘এই মামলা হওয়ার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুলিপাড়া মহল্লায় নজরুল ইসলাম জুলুর বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়ি থেকে নজরুল ও তার ছেলে জিম এবং একই এলাকা থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজের করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। এতে বলা হয়, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র বহন, ধর্ষণ, জুয়া ও মারামারিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম জুলু এলাকায় অবৈধ প্রভাববিস্তারকারী হিসেবে পরিচিত এবং তার ছত্রছায়ায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছে। এছাড়াও জুলুর নেতৃত্বে রাজশাহী প্রেসক্লাব দখলসহ ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।’









