নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ (দরিখরবোনা) এলাকায় একটি বাড়িতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসময় একটি বাড়ি ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী। ওই বাড়িতে ‘ডক্টর ইংলিশ’ নামের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে অস্ত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাড়িটি ঘিরে রাখেন সেনাবাহিনীর ৪০ ইস্ট বেঙ্গলির একটি দল। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই ও বিএনপি নেতা শফিউল আলম লাটকুর ছেলে মুন্তাসেরুল আলম অনিন্দ্য রয়েছেন। তিনি ওই কোচিং সেন্টারটির মালিক ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

আটককৃত অপর দুজন হলেন, অনিন্দ্য’র বন্ধু ফয়সাল আহমেদ (২৮) ও স্থানীয় কাদিরগঞ্জ মসজিদের খাদেম রবিন ইসলাম (২৮)। তারাও ওই কোচিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, অনিন্দ্য এর আগে হলি আর্টিজান ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কোচিং সেন্টারটি অনিন্দ্যের পৈত্রিক সম্পতিতে অবস্থিত। পাশেই তাদের বাড়ি। এছাড়াও সেখানে রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মাহফুজুল আলম লোটনের বাড়ি। অনিন্দ্য’র বাবা শফিউল আলম লাটকু মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তবে তাঁর ভাই লোটন বর্তমানে পলতাক রয়েছে। আর সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও পলাতক রয়েছেন। তার বাড়ি নগরীর উপশহর এলাকায়। তবে ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে লিটনের বাবার কবরস্থান। আশে-পাশে লিটনের পৈত্রিক সম্পত্তিও আছে।
স্থানীয়রা জানান, অনিন্দ্য এর আগে হলি আর্টিজান মামলায় ছয় মাস জেলে ছিলেন। পরে রাবি শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বিশেষ প্রভাবে ওই সময় তাকে মুক্ত করা হয়েছিল। তার পরেও অনিন্দ্য জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। গোপনে কোচিং সেন্টারের নামে নিজ বাড়ির পাশে গড়ে তোলে জঙ্গি আস্তানা। আশে-পাশে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি হওয়ায় তার ওই আস্তানা সম্পর্কে কেউ কোনো টের পাইনি এতোদিন। এমনকি ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরাও অনেকেই বিষয়টি টের পাইনি।
এদিকে দুপুরে রাজশাহী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার দরিখরবোনা এলাকায় ৪০ ইস্ট বেঙ্গল (মেকানাইজড) এর একটি বিশেষ অভিযান পারিচালিত হয়। দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পারিচালিত এ অভিযানেঅবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরোকের সঙ্গে জড়িত সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় তিনটি অগ্নয়াস্ত্র ও গুলি, সামরিক মানের দূরবীন ও স্নাইপার স্কোপ, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৫টি উন্নত মানের ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিভিন্ন দেশিয় ও বিদেশি কার্টিজ, বিপুল সংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বিস্ফোরক বোমা বানানোর সরাঞ্জমাদি, ৬টি কম্পিউটার সেট, নগদ ৭ হাজার ৪৪৫ টাকা, বিভিন্ন দেশি বিদেশি মদ ও ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিপুর রহমান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদসহ তিনজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা হয়েছে।









