নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে দুইদিনের সফরে এসে আজ শনিবার সকালে ঐতিহ্যবাহী মাশকালাইয়ের রুটি দিয়ে নাস্তা করেছেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ছয়টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরীর একটি ফুটপাতে কালাইয় বিক্রেতা নারীর দোকানে বসে নাস্তা করেন। তার ওই নাস্তা করার ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সিল্কসিটি নিউজের কাছেও একটি ছবি এসে পৌঁছেছে।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালাই রুটি খেয়ে চলে আসার সময় রুটি বিক্রেতা ওই নারী মন্ত্রীর জন্য দোয়া করতে থাকেন। ওই নারী বলেন, কখনো ভাবিনি মন্ত্রী এসে আমার দোকানে রুটি খাবে। আমি আজ খুব গর্বিত। এমন মানুষ এসে আমার দোকানে বসে রুটি খাবে কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। যাকে টিভিতে দেখেছি, তাকে আজ আমার ছোট্ট রুটির দোকানে বসে রুটি খাওয়ালাম। এমন ভাগ্য কয়জনের হয়- মন্তব্য করেন ওই রুটি বিক্রেতা। তবে রুটি বিক্রেতা ওই নারীর নাম জানাতে না পারাই তার নাম দেওয়া গেল না।
কালাই রুটি খাওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘রাজশাহীর নেতারা নাকি সকাল ১১টার আগে ঘুম থেকেই উঠে না। আর তাদের শহরে এসে আমি সকালে উঠে কালাই রুটি দিয়ে নাস্তা করি। কিন্তু তারা ঘুমাই।’
- ছবিতে দেখা যায়, ফুটপাতের কালাই রুটির দোকানের একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন মন্ত্রী। আর তার আশে-পাশে আছেন তার দেহরক্ষীসহ সফরসঙ্গীরা। এ অবস্থায় কালাই রুটি বিক্রেতা ওই নারী মন্ত্রীর হাতে একটি রুটি তুলে দিচ্ছেন।
এদিকে ফুটপাতে বসে কালাই রুটি খাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন কাণ্ডে অনেকেই ফেসবুকে নানাভাবে তাঁর প্রসংসা করতে থাকেন। তিনি সত্যিই একজন জনদরদি নেতা এবং দেশপ্রেমী বলেও অনেকেই আখ্যা দেন।
- ওবায়দুল কাদেরের ঘোনিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, শুক্রবার রাজশাহীতে আসার পরে ওবায়দুল কাদের রাজশাহী সার্কিট হাউজে ওঠেন। এরপর ওইদিন রাতেও তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করেন। ভোরে ফজরের নামাজ শেষে তিনি তার দেহরক্ষীসহ সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকালে পদ্মার পাড়ে হাঁটতে বের হন।
এসময় শিশু একাডেমীর পাশে পদ্মার পাড়ে ফুটপাতে কালাই রুটি বিক্রি করতে দেখে তিনি রুটি খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি ওই নারীর কালাই রুটির দোকানে গিয়ে বসেন। সেখানে বসে তিনি একটি রুটি দিয়ে নাস্তা করেন। সঙ্গে তার সফরসঙ্গীরাও কয়েকটি রুটি খান। সবমিলিয়ে তারা ৪-৫টি রুটি দিয়ে সকলেই নাস্তা করেন। শেষে মন্ত্রী ওই নারীর হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
স/আর









