ধর্ম

রাগ অন্তরের দাবানল ও মানবতার শত্রু

নিউজ ডেস্ক১৮ আগস্ট ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। তার রক্ত-মাংসের দেহ, শিরা-উপশিরার ভেতর বয়ে চলে আবেগের অদৃশ্য স্রোত। সে স্রোতের মাঝেই আছে কখনো হাসি, কখনো আনন্দ, কখনো অশ্রু, কখনো আবার দাউদাউ আগুনের মতো রাগ। রাগ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, কিন্তু যখন তা লাগামহীন হয়ে ওঠে, তখন তা যেন অন্তরের বাগানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুড়িয়ে ফেলে দেহের স্বাস্থ্য, নষ্ট করে আমলের সৌন্দর্য, গ্রাস করে আখিরাতের আশা। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—‘রাগ হলো শয়তানের প্রভাব; আর শয়তান সৃষ্টি হয়েছে আগুন থেকে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৪) এ কারণেই রাগ যখন বুকে ফেটে ওঠে, তখন মানুষ এমনসব কাজ করে ফেলে, যা তার দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়কেই বিপর্যস্ত করে দেয়। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতদের বারবার শিক্ষা দিয়েছেন : “লা তাগদাব—রাগ কোরো না।

” (বুখারি, হাদিস : ৬১১৬) 

আসলে প্রকৃত শক্তিমান সেই নয়, যে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে কুস্তির ময়দানে বিজয়ী হয়; বরং প্রকৃত বীর তো সেই, যে নিজের রাগকে বশে রাখতে সক্ষম হয়। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

আধুনিক বিজ্ঞানও এ সত্যকে নিশ্চিত করেছে। ২০১৫ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগ হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করে। রাগের দুই ঘণ্টার ভেতর হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আট গুণ বেড়ে যায়।

হৃদ্‌স্পন্দন দ্রুত হয়, রক্তনালি সংকুচিত হয়, জমাট বাঁধে রক্ত, আর চাপ বাড়তে থাকে ধমনীতে। এক মুহূর্তের ক্রোধ পুরো জীবনকে শূন্য করে দিতে পারে। 

এই জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—রাগ উঠলে নিজেকে থামাও। দাঁড়িয়ে থাকলে বসো, বসে থাকলে শুয়ে পড়ো। ঠাণ্ডা পানি মুখে নাও, কারণ পানি যেমন আগুন নেভায়, তেমনি রাগের আগুনও তা শান্ত করে।

হাদিস শরিফেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নির্দেশ দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮২) 

রাগের উত্তাপ নেভানোর সবচেয়ে সুন্দর পথ হলো ক্ষমা। ক্ষমাই শান্তির বীজ বপন করে মানুষের অন্তরে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

“যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে এবং ক্রোধ প্রকাশের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেয়—তাঁরাই প্রকৃত ঈমানদার।” (সুরা শুরা, আয়াত : ৩৭)

অতএব রাগ হলো অন্তরের দাবানল, যা দেহ, মন ও আত্মা—সবকিছু পুড়িয়ে ফেলে। আর ক্ষমা হলো শীতল বৃষ্টিধারা, যা সেই দাবানলকে নিভিয়ে দেয়, হৃদয়কে করে প্রশান্ত, আমলনামাকে করে দীপ্তিময়।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাগের আগুন থেকে রক্ষা করুন, ক্ষমার আলোতে জীবন আলোকিত করুন এবং খাঁটি মুমিনদের কাতারে শামিল করুন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিকও অনুবাদক