সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
মুসলিমবিশ্বে সবচেয়ে মহিমান্বিত দিনগুলোতে সারা দিন রোজা রেখে এক গ্লাস পানিও যেন স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয়। আর তা ধনী-গরিব সবার জন্য একই।
বাংলাদেশে রমজানে যে যার সবার সাধ্যমতো ইফতার করে থাকে। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা ইফতারে নানা রকমের আয়োজন করে থাকে।

তবে যে গরিবের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটে না তাদের জন্য ইফতার এক ধরনের আকাশ কুসুম চাওয়ার মতো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক ভিডিও প্রতিবেদনে রাজধানীর এক দরিদ্র নারী বলছিলেন- ‘সারা দিন রোজা থাইক্কা সন্ধ্যার পরে পানি মুখে দেই। পানি পান্তা যাই পাই তাই খাই। কোনো কামাই রুজি করতে পারি না, পাও ভাঙা।’
আরেক নারী বলছিলেন- ‘মুখোত পানি দেওয়ার (ইফতারের) সময় মুড়ি পাই, মুড়ি দিয়া করি, বাসাবাড়িত যদি কোনো কিছু দেয় তাক দিয়া মুখোত পানি দেই’। অন্য এক নারী একবাক্যে বলেন, ‘পানি দিয়া ইফতার করি, কইরা পরেতে ভাত খাই’।
অনেক গরিবের ঘরে চুলায় আগুন জ্বলে না, হাঁড়িতে ভাত থাকে না। ইফতার তো দূরের কথা, পানি ছাড়া আর কিছুই জোটে না তাদের ভাগ্যে। বয়স্ক এক নারী বলেন, ‘সন্ধ্যা রাইতে পানি লই, ভাত কি না খাই, আল্লাহ যা রিজিকে রাখছে খাই।’ আরেকজন বলেন, ‘ইস্তারি (ইফতার) করি ভাত দিয়া। কোনো সময় পানি দিয়া ইস্তারি করি, আল্লাহ যে রকম জোগাড় করে সে রকম খাওন লাগে’।
একজন বয়স্ক পুরুষের মুখেও উঠেছে গরিব মানুষের ইফতারের করুণচিত্র। তিনি বলছেন, ‘কোনো সময় ইফতারি জোগাড় করতে পারি না, ওই সময় পানিটানি দিয়া ইফতারি কইরা হাইরা পরে নমজের পড়ে একমুঠ ভাতটাত জোগাড় করে খাই।’ একজন প্রবীণ নারী জানালেন, ইফতার ও সেহরির দুই বেলাতেই তারা ভাত খান।









