স্বাস্থ্য

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার ওষুধে কি পা ফুলে যেতে পারে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিউজ ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আধুনিক জীবনযাত্রার জাঁতাকলে পড়ে মানুষ এখন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম দুটি হচ্ছে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ। এসব রোগ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ জীবনযাপনে পরিবর্তনসহ নানা ওষুধ ব্যবহার করেন। আর কিছু সাধারণ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।

এমনটাই জানাচ্ছেন হায়দরাবাদের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার।
ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে ডা. কুমার বলেন, ‘অনেক প্রচলিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পা ফুলে যায়। সবচেয়ে বেশি দায়ী দুটি ওষুধ হলো অ্যামলোডিপিন—যা রক্তচাপ কমাতে ব্যবহৃত হয় এবং পাইওগ্লিটাজোন—যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।’

ডা. কুমার ব্যাখ্যা করেন, অ্যামলোডিপিন শরীরের ছোট রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে, ফলে তরল পদার্থ আশেপাশের টিস্যুতে জমে যায়।

অন্যদিকে পাইওগ্লিটাজোন শরীরে সোডিয়াম ও পানি জমিয়ে রাখে, যার ফলে পা বা পায়ের গোড়ালি নরম হয়ে যাওয়া বা ফুলে যেতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বা যারা বেশি মাত্রায় এই ওষুধ গ্রহণ করেন তারা এই সমস্যায় বেশি পড়েন।
এ ছাড়া প্রেগাবালিন নামের একটি ওষুধ, যা সাধারণত স্নায়ুর ব্যথায় দেওয়া হয়, সেটিও একইরকম ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে। ‘এই ওষুধ ক্যাপিলারির পারমিয়াবিলিটি বাড়িয়ে দেয় এবং শিরায় রক্ত জমে থাকে, ফলে পায়ের নিচে ফোলাভাব বা ফুলে যাওয়া দেখা দেয়।

তিনি পরামর্শ দেন, যদি কেউ নতুন করে এই ওষুধগুলো শুরু করার পর পায়ে ফোলাভাব লক্ষ্য করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ পরিবর্তন বা বিকল্প ওষুধ বিবেচনা করা হতে পারে।

একই মত প্রকাশ করেন ডায়াবেটোলজিস্ট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব কোভিল। তিনি বলেন, ‘অ্যামলোডিপিন ও পাইওগ্লিটাজোনের মতো কিছু ওষুধে কিছু মানুষের পায়ে বা গোড়ালিতে সামান্য ফোলাভাব হতে পারে। অ্যামলোডিপিন রক্তনালি শিথিল করে।

কিন্তু এতে নিচের অংশে তরল জমতে পারে। আবার পাইওগ্লিটাজোন শরীরে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে। ফলে পায়ে ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রেই এটি ঘটে না বলে জানান ডা. কোভিল।

তিনি আরো বলেন, ‘এই ওষুধগুলো সঠিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিলে নিরাপদ ও কার্যকর। রোগীরা নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করবেন না বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ঠিক করা, বিকল্প ওষুধ দেওয়া, বা প্রয়োজনে হালকা ডায়িউরেটিক যুক্ত করা যেতে পারে।’

সবশেষে তিনি পরামর্শ দেন, ‘রোগীদের উচিত নিয়মিত চেকআপ করা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দ্রুত জানানো। নিজের শরীরের ব্যাপারে সচেতন থাকুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না।’

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস