নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘যতো সম্ভব এপ্রিল মাস। হঠাৎ একদিন হাজির মুসা। বলে বিদেশ যাবো। তার যে জমি-জমা ছিলো সব বিক্রি করবো এ কথা বলে। আমি নিষেধ করি বাবা বিক্রি করিশ না। মুসা বলে না মা আমার টাকার দরকার। তিন লাখ টাকায় তার সব জমি বিক্রি করে দিলো। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় বলে ‘মা এ জীবনে আর দেখা হবে না, ঐ জগতে দেখা হবে তোমার সঙ্গে।’ ভলো থেকে মা। এই বলে চলে গেলে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর বাগমারায় মঈনুল ইসলাম ওরফে মুসার মা সুফিয়া বেগম মুঠোফোনে সিল্কসিনিউজকে এসব কথা কথা বলেন।
তিনি সিল্কসিনিউজকে বলেন, শুধু ঈদেই আসতো মুসা। তাছাড়া খুব প্রয়োজেন ছাড়া আসতো না। আমার ভাল শিক্ষিত ছেলে ঢাকা যাওয়ার পরে মেজর জাহিদ নষ্ট করে দিয়েছে। আমার ছেলে আগে জঙ্গি ছিলো না। মেজর জাহিদের মেয়ে লাইফ স্কুলে পড়তো। সেই স্কুলে মনে হয় পড়াতো মুসা। জানি না কি থেকে কি হয়ে গেলো।

জানা গেছে, মঈনুল ইসলাম ওরফে মুসার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারায়। তিনি উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের বুজরুককোলা গ্রামের আবুল কালাম মোল্লাহর ছেলে। মুসার বাবা আবুল কালাম মোল্লাহ মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি মারা গেছেন। মুসা গ্রামে খুব কম আসতেন। লোকজনের সঙ্গে তেমন যোগাযোগও ছিল না। বাগমারায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে মুসার পরিচিতি ছিল। ঢাকা কলেজে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে তিনি উত্তরার লাইফ স্কুলে যোগ দেন। এরপর থেকেই তাঁদের পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হয়।
মুসার স্ত্রী তৃষ্ণার বাড়ি বাগমরার সাঁইপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবদুস সামাদ। তিনি বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনিউজকে জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোন কিছু বলা হয়নি। তার পরিবারের লোকজন সম্ভবত বাড়িতে আছি। প্রযোজন হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দীকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইয়ের হাত ধরে জঙ্গি সংগঠন জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্থান হয়। এর পর তারা বাগমারা এলাকায় সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা, গুম ও নির্যাতন চালাতে বাংলাভাইকে সহযোগিতা করে। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানা ও রাজশাহীর আদালতে হত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিল।
স/আ









