স্বাস্থ্য

মস্তিষ্কের রোগের আগাম সংকেত দিতে পারে যে পরীক্ষা

নিউজ ডেস্ক৬ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

একদম-ই স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন। শরীরে রোগের কোনো লক্ষণ নেই। ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কোনো সমস্যা দেখা দেবে কি না, সেটা হয়তো আগে থেকে বলা যায় না। আপাতদৃষ্টিতে এমনটাই মনে হতে পারে।

তবে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের রোগের কোনো লক্ষণ না থাকলেও সামান্য একটা রক্ত পরীক্ষাই পূর্বাভাস দেবে তার।
সম্প্রতি এক নিউরোসার্জন সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন রাখেন, ‘লক্ষণ দেখা দেওয়ার বহু বছর আগেই যদি সচেতন করে দেয়, তবে কি এই পরীক্ষা করাবেন?’ এই পোস্টেই তিনি নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেইন পরীক্ষাকে সম্ভাব্য ‘গেম চেঞ্জার’ তকমা দিয়েছেন।

স্নায়ুর কোনো কোষ আঘাত পেয়েছে কি না, সেটা বিচার করা হয় যে পরীক্ষার মাধ্যমে সেই নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেইন বর্তমান সময়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য কেমন থাকবে, না থাকবে সেটার পূর্বাভাস দেওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবে উঠে আসছে। অ্যালঝাইমার্সের থেকে পারকিনসন্স, স্ট্রোকসহ নানা সমস্যাকে আগেই চিহ্নিত করবে এই পরীক্ষা।

কিন্তু কেন এই পরীক্ষা বর্তমানে চর্চায় উঠে এল, এমন প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে। স্নায়ু কোষ সহজে মেরামত হতে চায় না। আর এই নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেইনের মাত্রা বেশি থাকা মানেই লক্ষণ দেখা দেওয়ার বহু আগে থেকেই নীরবে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়ে চলেছে।

নিউরোফিলামনেট লাইট চেইন কী?

ওই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এই সিরাম বা প্লাজমা টেস্টটি আদতে একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে থাকা ছোট ছোট প্রোটিনের কণা মাপা হয়। প্রোটিনের কণাগুলো মূলত নিউরনের মধ্যে থাকে। যখন মস্তিষ্ক বা শিরদাঁড়ার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তা সেখান থেকে নির্গত হয়।
চিকিৎসকের মতে, এই নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেইন পরীক্ষা এমআরআইয়ে কোনো পরিবর্তন ধরা পড়ার আগেই মস্তিষ্কের ক্ষতিকে চিহ্নিত করে ফেলতে পারে।

সুস্থ থাকতে, বিপদ এড়াতে কী কী করণীয় সেটাও জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

তার মতে, মস্তিষ্কের রোগ এড়াতে চাইলে রক্তচাপ ও সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সঙ্গে চাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, সুষম খাদ্য।
নিয়মিত হাঁটাচলা করলে এবং মদ-ধূমপান থেকে দূরে থাকলেও মস্তিষ্কের সমস্যাকে এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকের মতে, কারো পরিবারে যদি স্নায়বিক রোগের ইতিহাস থেকে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এই পরীক্ষা করা উচিত।

চিকিৎসকের এই দাবি কি আদৌ সঠিক?

অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরোফাইলামেন্ট লাইট চেইন বেশি থাকলে স্নায়বিক ক্ষতিকে বোঝায়। চলতে থাকা মস্তিষ্কের ক্ষতি বোঝার বা চিহ্নিত করার অন্যতম উপায় হলো এই পরীক্ষা। নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেনের মাত্রা বেশি থাকার অর্থই হলো দ্রুত পারকিনসন্স বা অ্যালঝাইমার্সের লক্ষণ বৃদ্ধি পাওয়া। যদিও কোন রোগ সেটা নিউরোফিলামেন্ট লাইট চেইন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

সূত্র : আজকাল