সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতারা এতে থাকবেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা যৌথভাবে আলোচনা করে সে সমস্যার সমাধান করবেন।

একই সঙ্গে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলেও ভোগ্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে সেদিকে নজর রাখা হবে। এজন্য ভোগ্যপণ্যের ওপর বর্তমানে যে হারে ভ্যাট আরোপিত আছে, তা থেকে খুব একটা হেরফের হবে না। এছাড়া কৃষিপণ্যসহ কিছু ভোগ্যপণ্যে বিশেষ স্কিমের আওতায় ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠক হয়। সেখানে আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
আগামী ১৩ জুনের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকবে। একই সঙ্গে ভ্যাটের একাধিক হারসহ খাতভিত্তিক ভ্যাটের হারও ঘোষণা করা হবে। এরপর কোন পক্ষের আপত্তি থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে। বাজেট ঘোষণার পর থেকে বাজেট পাসের আগে তারা এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেবেন। সেগুলো পর্যালোচনা করে এনবিআর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করবে। সে আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বাজেট পাসের পরও যদি কোনো সমস্যা থেকে যায় সেগুলো সমাধানের জন্যও ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে। তারা তখন ব্যবসায়ীদের আপত্তির ভিত্তিতে বৈঠক করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ভোগ্যপণ্যে যে হারে ভ্যাট আরোপিত আছে নতুন আইনেও ওই হারের কাছাকাছি পর্যায়ের হার আরোপ করা হবে, যাতে কোনো ক্রমেই ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়ে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে কৃষিপণ্যের ওপর কোনো ভ্যাট নেই। নতুন আইনেও এ বিধান অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া কিছু আমদানি পণ্য রয়েছে যেগুলো নিত্যপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেগুলোতে বিশেষ স্কিমের আওতায় ভ্যাট আরোপ করা হবে। ফলে এসব পণ্যের ওপরও ভ্যাটের হার বাড়বে না।
বর্তমানে ১৬টি পণ্য ও সেবার ওপরে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে ২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত আছে। সেসব সেবা ও পণ্যে ৫, ৭ দশমিক ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হবে। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যে সর্বনিু ভ্যাট থাকবে। সর্বনিু হিসাবে যেগুলোতে ৫ শতাংশ ভ্যাট বসবে কিন্তু বর্তমানে ভ্যাটের হার ২ শতাংশ। এমন সব ভোগ্যপণ্যে ভ্যাট আদায় হবে বিশেষ স্কিমের আওতায়।
নতুন আইনে কোনো প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে না। তবে এর পরিবর্তে ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বাড়ানো হবে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকবেন।









