রাজশাহী

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে হয়রান রাজশাহী নগরীর গ্রাহকরা

নিউজ ডেস্ক৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীর দরিখরবনা এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক নুরুল ইসলাম। গত নভেম্বর মাসে তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ বিল হয় ৭১০ টাকা। তার আগের মাস অক্টোবরে ছিলো এক হাজার ১০ টাকা। অথচ গত ডিসেম্বর মাসে ভরা শীতে ওই বাড়ির বিদ্যুৎ আসে ২ হাজার ৪৮৬ টাকা। ৪৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ১০ জানুয়ারির মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

 

নুরুল ইসলাম বলেন, এর আগেও গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বাড়ির হঠাত করে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ ওই বাড়িতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বা ভারি কোনো বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রও ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু তারপরেও মাঝে মাঝে এমন ভুতুড়ে বিলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হয়। এমন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়েও আর্থিক টানা-কষার মধ্যে পড়তে হয়। আবার বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেও তেমন কোনো সুরাহা হয় না।’
নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার বাসীন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছরের জুন মাসে তাঁকেও হঠাৎ করে ৪ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ দুইটি কক্ষসহ গোটা বাড়িতে তার দুটি ফ্যান ও চারটি লাইটের বেশি আর তেমন কোনো কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার হয় না।
সাইফুল ইসলাম জানান, এ নিয়ে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু। কিন্তু তাঁকে দিয়ে আগে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে তারপর অভিযোগটি নেওয়া হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের মিটার রিডাররা সাধারণ বাড়িতে বসে থেকেই বিল তৈরী করেন। আর মিটার না দেখে বিল তৈরী করার কারণে ইচ্ছেমতোই বিলের ইউনিও লিখে দেন। এ কারণে অধিকাংশ সময় মিটার রিডিং-এর সেঙ্গ তৈরীকৃত রিডিং-এর মিল পাওয়া যায় না। যার ফলে গ্রাহককে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ খেটে খাওয়া গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এমন ভোগান্তি শত শত গ্রাহকের। আর এসব অভিযোগ প্রায় প্রতিদিনই জমা পড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগে। ফলে গড়ে প্রতি মাসে এমন অভিযোগই আসছে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার গ্রাহকের। যেসব গ্রাহকের হঠাৎ করে ৪-৫ গুন হারে অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেসব গ্রাহককে বাড়তি ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে। কারণ বিদ্যুতের বিলের দর নির্ধারণ হয় তুলনামূলক ব্যবহারের ফলে। যেমন ৭৫ ইউনিটের নিচে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল নির্ধারিত হয় ৩ টাকা ৫৩ পয়সা। কিন্তু ৭৬-২০০ ইউনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল হয় ৫ টাকা ১ পয়সা করে। একইভাবে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল হয় ৮ টাকা ৫১ পয়সা।
এখন ধরা যাক একজন গ্রাহকের নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের মধ্যে। কিন্তু সেই গ্রাহকের হঠাৎ করে বাড়িতে বসে বিল করা হলো ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের মধ্যে। তাহলে ওই গ্রাহকে শুধুমাত্র অতিরিক্ত বিদ্যুত বিলই দিতে হবে গড়ে অতিরিক্ত সাড়ে তিন টাকা প্রতি ইউনিটে। ফলে ওই গ্রাহককে একসঙ্গে ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যহার না করলেও তার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে শুধু মিটার রিডিারদের খামখেয়ালিপনার কারণে।
রাজশাহী শহর বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র মতে, মিটার রিডাররা অধিকাংশ সময় বাড়িতে বসে বিল তৈরীর কারণে মিটারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য হয় না। ফলে যখন তারা মিটার দেখে বিল করতে যায়, তখন কম বা বেশি রিডিং হয়ে থাকে। এতে করে ওই কখনো কখনো একসঙ্গে আগের বকেয়া ইউনিটগুলো লিখেও বিদ্যুৎ বিল তৈরী করে। যার কারণেও গ্রাহককে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কোনো কোনো গরিব গ্রাহরা এই রকম ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে বিল পরিশোধ না করায় কখনো মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ করা ছাড়াও মামলার কবলেও পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিলের এমন অরাজকতা নিয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান অভিযোগ করে বলেন, ‘এভাবে ভুতুড়ে বিল নিয়ে আমরা বারবার বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে লিখিত এবং মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি। আবার কখনো আন্দোলনও করেছি। কিন্তু লাভ হয়নি। নগরীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জিম্মি করে দিনের পর দিন এভাবে ইচ্ছেমতো বিল আদায় করে চলেছে বিদি্যুৎ বিভাগ। যার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।
জানতে চাইলে রাজশাহী বিদ্যুৎ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, কখনো কখনো মিটার রিডারদের ভুলের কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। তবে অভিযোগ এলে আমরা তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে এর সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। বা গ্রাহককে হয়রানিরও কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নাই।’

স/আর