আমানুল হক আমান, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘায় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় একই নামের দুটি বেসরকারি স্কুল গতকাল রোববার (৭ জুলাই) বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। একই নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৫৫১ জন। শিক্ষক রয়েছে ২৮ জন। এর মধ্যে আবদুল গাফফার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ২২৬ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ১২ জন।
অপরদিকে তহিদুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাম পরিচালিত প্রতিষ্টানে শিক্ষার্থী ৩৩৫ ও শিক্ষক ১৬ জন। প্রতিষ্ঠান দুটি উপজেলার সদরে আল হেরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি নামে চলছে। দুটি প্রতিষ্ঠানে প্লে শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।

জানা যায়, উপজেলার সদরে আল হেরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি নামে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী আবদুল গাফফার নামের এক ব্যক্তি একটি স্কুল তৈরী করেন।
পরবর্তিতে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ তহিদুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাকে পাটনার হিসেবে নেয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে ঝামেলা হলে আবদুল গাফফার ২০১৬ সালে বাঘা সদরের বাংলা লিংক টাউয়ারের কাছে আরেকটি একই নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও অধ্যক্ষ আবদুল গাফফার। এই প্রতিষ্ঠানে ২২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছে ১২ জন। এখানে প্লে শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া লেখা করানো হয়।
অপরদিকে বাঘা দিঘির দক্ষিণপাড়ে ২০১৩ সালে আল হেরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৩৫ জন। শিক্ষক রয়েছে ১৬ জন। অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন মাহামুদুল হাসান। পরিচালনা করছেন তহিদুল ইসলাম ও রাশিদুল ইসলাম।
পরের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল গাফফার বলেন, প্রতিষ্টানের পৌর ট্রেড লাইসেন্স, ইএমআইএফ, বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন থেকে রেজিষ্টেশন, পিএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ, কমিটি কর্তৃক গঠনতন্ত্র, শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বই সংগ্রহ করার সকল কাগজ পত্র রয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কোন কাগজ পত্র নেই। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মতে প্রতিষ্টান বন্ধের বন্ধ রেখেছি।
আগের প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শনিবার (৭ জুলাই) পরিদর্শনে এসে সরকারি শিক্ষা মন্ত্রনালয়র কাগজ পত্র দেখাতে বলেন। আমরা এই কাগজ দেখাতে না পারানোর ফলে মৌখিকভাবে স্কুলটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ফলে আমরা স্কুল বন্ধ রেখেছি।
আবদুল গাফফার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাঈদ আবদুল্লাহীল বাকি ও প্রথম শ্রেনির শিক্ষার্থী সাঈদা কানিজ আননুর এর অভিভাবক আমিরুল ইসলাম বলেন, হটাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। বন্ধ হয়ে গেলে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা ছাড়া কোন উপায় নেই।
বাঘা দিঘির দক্ষিণপাড়ের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের বর্তমান বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ নীতি মালার আলোকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কাগজ দেখতে চান তিনি। আমরা দেখাতে পারি নি। নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশে স্কুল বর্তমানে বন্ধ রেখেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি একই নামে দীর্ঘদিন থেকে চলচিল। কোনটির বৈধ কাগজ পত্র নেই। ফলে মৌখিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স/মি









