ধর্ম

বীরত্ব ও উদারতার আলোকবর্তিকা

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মহানবী (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি আবুল ইয়াসার আস-সালামি (রা.)। তাঁর নাম কাআব। উপনাম আবুল ইয়াসার। বাবার নাম আমর।

কেউ এর ব্যতিক্রমও বলেছেন। ইবনে সাদ (রহ.)-এর বর্ণনামতে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর ফুফাতো ভাই। তিনি আকাবার বায়াতে অংশগ্রহণকারী ও বদরের বীরযোদ্ধা সাহাবি।
যুবক বয়স থেকেই মহানবী (সা.)-এর এই সাহাবি অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে ইসলামী বাহিনীর একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন।

বদর যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। স্বল্প বয়সী এই সাহাবি বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন—মুশরিকদের পতাকা কেড়ে নিয়েছেন। আব্বাস (রা.)-কে গ্রেপ্তার করেছেন।
অথচ তিনি ছিলেন বেঁটে আর আব্বাস (রা.) ছিলেন লম্বা। ইবনে ইসহাক ও ইবনে সাদ (রহ.) বলেন, বদর-পরবর্তী সব যুদ্ধে তিনি যোগদান করেছেন। আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তিনি আলী (রা.)-এর পক্ষে ছিলেন এবং সংঘটিত সব যুদ্ধে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন।
তিনি একজন বীর যোদ্ধা হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁর মন অত্যন্ত কঠোর ছিল, বরং তাঁর মন ছিল অত্যন্ত নরম। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার চিত্তের অধিকারী।

মনের দিক থেকে যেমন ধনী ছিলেন, অর্থ-সম্পদের দিক থেকেও মহান আল্লাহ তাঁকে যথেষ্ট বরকত দিয়েছিলেন। তাই মানুষ তাঁর থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে না পারলে, তিনি তাদের ঋণ মাফ করে দিতেন। এ মর্মে মুসলিম শরিফে (মুসলিম : ২/৪১৫-৪১৬)
দীর্ঘ একটি হাদিস বর্ণিত আছে। তার সারসংক্ষেপ এই—জনৈক ব্যক্তি তার থেকে ঋণ নেওয়ার পর তাঁকে এড়িয়ে চলতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আবুল ইয়াসার (রা.) একদিন তার বাড়িতে চলে গেলেন। তার বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে ডাক দিলেন। আবুল ইয়াসার (রা.)-এর উপস্থিতি টের পেয়ে লোকটা খাটের নিচে লুকিয়ে গেল এবং লোক মাধ্যমে জবাব দিল যে সে বাড়িতে নেই। এরই মধ্যে তার পাঁচ বছরের একটি বাচ্চা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে আবুল ইয়াসার (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাবা কোথায়? বাচ্চাটা ঝটপট বলে দিল, বাবা খাটের নিচে লুকিয়ে আছেন। এরপর তিনি উঁচু আওয়াজ দিয়ে বললেন, ভাই তুমি কোথায় আছ আমি জানি; তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসো। লোকটা বেরিয়ে এলে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এমনটা করলে কেন? লোকটি জবাব দিল অভাবের তাড়নায়। তিনি তিনবার তাকে কসম দিয়ে একই প্রশ্ন করলেন। লোকটিও প্রতিবার একই জবাব দিল। এরপর তিনি বলেন, সচ্ছলতা ফিরে এলে আমার পাওনা দিয়ে দিয়ো; না হয় তোমাকে মাফ করে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!

একজন মানুষের মন কতটা বড় হলে এভাবে নিজের পাওনা মাফ করে দিতে পারে। মহানবী (সা.)-এর সুহবতের বরকতে মহান আল্লাহ তাঁদের অন্তরকে আলোকিত করেছিলেন। উদার করেছিলেন। তাঁরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সব কিছু ত্যাগ করার মতো মানসিকতা রাখতেন।

মহানবী (সা.)-এর এই উদার ও বীর সাহাবি ৫৫ হিজরি সনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। ইবনে আসির ও নববী (রহ.) বলেন, বদরি সাহাবিদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন।

(আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা : ৩/৪৩৬; আল-ইসাবাহ : ৭/৩৮০)