ধর্ম

বিপদ যখন কল্যাণের দ্বার খোলে

নিউজ ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে এতে বহু ব্যবসায়ী পথে বসার অবস্থা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা যেমন রাষ্ট্রকে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে, তেমনি চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে বহু ব্যবসায়ী ও কর্মী। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কারো কাছে নেই।

তাদের পুনর্বাসন করে আগের অবস্থানে ফেরানোর সামর্থ্য ও মনোবল হয়তো কারো হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, সর্বক্ষেত্রে একমাত্র মহান আল্লাহই আমাদের ভরসা। তিনি ছাড়া আমাদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। আমাদের যেকোনো সমস্যার সমাধান একমাত্র তাঁর কাছেই আছে।

তাই জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে একমাত্র তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। বিপদের দিনে তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে সে বিপদ মানুষের জন্য কল্যাণে পরিণত হয়। এর প্রতিফলন মানুষ ইহকাল ও পরকালে অবলোকন করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব (কখনো) কিছুটা ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনো) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনো) জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা।

সুসংবাদ শোনাও তাদেরকে, যারা (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়। যারা তাদের কোনো মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, ‘আমরা সবাই আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বিশেষ করুণা ও দয়া রয়েছে এবং এরাই আছে হেদায়েতের ওপর।’”
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৫-১৫৭)

এই আয়াতগুলোতে প্রথমত মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দুনিয়াবি পরীক্ষার পূর্বাভাস দিয়েছেন, যার অন্যতম অংশ হলো জান-মাল বা সম্পদের ক্ষতি। ফলে দুনিয়ার সাময়িক বিপদে মুমিন ভেঙে পড়বে না।

কারণ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষার ঘোষণা মহান আল্লাহ আগেই দিয়েছেন।
মানুষ তার দুনিয়ার জীবনে মাঝেমধ্যে এসংক্রান্ত পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তখন যারা মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর ওপর আস্থা রাখবে এবং ধৈর্য ধরবে, তাদের জন্য সুসংবাদ। মহান আল্লাহ তখন তাদের ক্ষতির বিপরীতে বহু গুণে প্রতিদান দেন।

মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো বান্দার ওপর মুসিবত এলে যদি সে বলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ লি খয়রাম মিনহা’ অর্থাৎ আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে এ মুসিবতের বিনিময় দান করুন এবং এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করুন। তবে আল্লাহ তাকে তার মুসিবতের বিনিময় দান করবেন এবং তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করবেন। উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন, ‘এরপর আবু সালামাহ ইন্তেকাল করলে আমি এরূপ দোয়া করলাম, যেরূপ রাসুলুল্লাহ (সা.) আদেশ করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়েও উত্তম নিয়ামত অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে স্বামীরূপে দান করলেন।’

(মুসলিম, হাদিস : ২০১২)

সুবহানাল্লাহ! যদি কেউ বিপদে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে, তবে মহান আল্লাহ তার জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেবেন। সে যা হারিয়েছে, এর চেয়ে বহু গুণে প্রতিদান দেবেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুণাহগুলো ক্ষমা করে দেন।

(বুখারি, হাদিস : ৫৬৪১)

তাই যেকোনো বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধরে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে এর বিনিময়ে কল্যাণের দ্বার খুলে দেবেন।